আমার এক ডাক্তার বন্ধু আছে। সে এখন কার্ডিয়াক সার্জন। শুধু মেধাবী ডাক্তারই নয় সে আমাদের ব্যা – পিনাকী ভট্টাচার্য

আমার এক ডাক্তার বন্ধু আছে। সে এখন কার্ডিয়াক সার্জন। শুধু মেধাবী ডাক্তারই নয় সে আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে সুদর্শন আর হ্যান্ডসাম ছেলে ছিলো। আমি ওকে বলেছিলাম মাধুরী দীক্ষিত তোমারে আগে দেখলে আর শ্রীরাম নেনেরে বিয়া করতো না। যাই হোক সে হয়তো বিএনপির সমর্থক ছিলো। তারে সেই অপরাধে এমন একটা জায়গায় পাঠালো আওয়ামী লীগ যেখানে কার্ডিয়াক সার্জারীর কোন ব্যবস্থাই নাই।

আমার বন্ধুটা বসে থাকে আর মাছি মারে। তারপর তার মনে হইলো এইখানে একটা কার্ডিয়াক সার্জারী ইউনিট করতে কী কী লাগবে? কত খরচ হবে? কেন এখানে কার্ডিয়াক সার্জারী ইউনিট করা দরকার? এইসব তৈরি করে সে এলাকার পাবলিকরে বুঝাইলো। পাবলিকে তার পিছে দাঁড়াইলো। এলাকার লোক দাবী তুললো এইখানে কার্ডিয়াক সার্জারী ইউনিট দরকার। সরকার সুরসুর করে সেখানে কার্ডিয়াক সার্জারী ইউনিট বানায়ে দিলো। আমার বন্ধু সেই পুরা প্রজেক্ট তদারকি করলো। ইন ফ্যাক্ট তার পরিকল্পনা মোতাবেকই হইলো সবকিছু। তারে পানিশমেন্ট দিতে চাইছিলো, আর সে হইয়া উঠলো পাব্লিক হিরো।

আমি দেখতে গেছিলাম তার কার্ডিয়াক সার্জারী ইউনিট। ততদিনে সে পাঁচশো কার্ডিয়াক সার্জারী কইর‍্যা ফেলছে।

তাই তো আমার মনে হয় রাঙামাটি বা পার্বত্য চট্টগ্রাম এই পানিশমেন্ট ট্রান্সফারগুলোতে উপকৃতই হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় নাগরিকেরা গ্রামে পলায়ে যাওয়াতে নাকি বাংলাদেশের গ্রামগুলা জাইগ্যা উঠছিলো। এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইও আরেক মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধের উপজাত হিসেবে এভাবেই অনুন্নত এলাকাগুলো জাইগ্যা উঠবে। এই লড়াইয়ে একদিকে লুটেরা অপদার্থরা আরেক দিকে দেশপ্রেমিক মেধাবীরা।

লুটেরা অপদার্থদের পরাজিত না করে আমার মতো অনেকেই ঘরে ফিরবেনা। আমার মতো অনেকের জন্যই অবশ্য এটা শুধু রেটরিকই না। আমি গত আগস্টের পাঁচ তারিখ থেকে বাড়ি ছাড়া। ফ্যাসিবাদের পতন না হলে আমার মতো অনেকেই বাড়িতে ফিরতে পারবেনা। আমার পলাতক জীবনের অবসানও হবেনা। লড়াই দীর্ঘ হোক অসুবিধা নাই। তবে বিজয় ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প নাই।

ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।

PB/FS/7/03JUL2019

Pinaki Bhattacharya | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-03 14:20:29