It's official – Bangladesh now has COVID-19. – সাবিনা আহমেদ

It's official – Bangladesh now has COVID-19.

উন্নত দেশগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা, হাসপাতাল, আইসিইউ, রেস্পেরেটরি ভেন্টিলেটর আছে বিধায় রোগী পর্যাপ্ত চিকিৎসা পেয়ে ভালো হচ্ছে।

চীন দুইটা মেইকশিফট হাসপাতাল বানিয়ে রোগিদের আলাদা করে চিকিৎসা দেয়, শহরগুলোকে ক্লোজড করে দেয়, ব্যাঙ্কনোটস পর্যন্ত জীবাণু মুক্ত করে, রাস্তাঘাট ওষুধ ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করে। তারা অত্যন্ত সিস্টেমেটিকভাবে নভেল করোনা মোকাবেলা করে যাচ্ছে।

চীনে বিশ্বের অন্যান্য দেশ মাস্ক পাঠায়, ওষুধ পাঠায়। কিন্তু এসব সুবিধা অন্য দেশগুলো পাবে না কারন এখন এই ভাইরাস প্রায় সব দেশেই পৌঁছে গেছে। সবাইকেই এখন কমবেশি এর মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে এর বিস্তার এখনও পিকে পোছায় নাই।

ইরানের অবস্থা খুব খারাপ। একেতো তাদের উপর এম্বার্গো, তার উপর তাদের সরকার প্রথম দিকে খুব উদাসীনতা দেখিয়েছে। কভিড-১৯ এর শতকরা মৃত্যুর হার যেখানে WHO এর পরিসঙ্খ্যানে ৩.৪% ইরানে সেখানে প্রায় ১০% (unofficially) । ইরানের অনেক সরকারি কর্মচারী এমনকি পার্লামেন্টের মেম্বারেরাও করোনায় আক্রান্ত, দুইজন এমপি মারা গেছেন। ইরানে নভেল করোনায় আক্রান্ত রোগির সংখ্যা হাসপাতালের ধারন ক্ষমতার উপরে, তাই তাদের মৃত্যুর হার বেশি। ইরানের বিচার বিভাগ কারাগারে করোনার বিস্তার ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রায় ৫৪,০০০ এরও বেশি বন্দিকে ফারলোর ভিত্তিতে আপাতত মুক্তি দিয়েছে।

বাংলাদেশের কেইস খুব ইন্টারেস্টিং। আমার কেন জানি এখনও বিশ্বাস হয় না যে এই ভাইরাস সবে বাংলাদেশে এসেছে। যদি আরও আগে এসে থাকে আর চারদিকে মানুষের যেই কাশি জ্বরের খবর শুনেছি তার কারন কোভিড-১৯ হয় তাহলে এক কথা (আই ডাউট ইট), আর যদি সবে এসে থাকে তাহলে আগামী তিন সপ্তাহ খুব ক্লোজলি মনিটর করতে হবে রোগির সংখ্যা কেমন বাড়ছে। আর রোগির সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে তাহলে তাদের চিকিৎসার কি ব্যবস্থা হাস্পাতালগুলোর আছে সেটা প্রশ্নবোধক। গরীবদের কিভাবে আর কোথায় চিকিৎসা দেয়া হবে সেই ব্যাপারে সরকারের কি প্ল্যান কিছুই জানা যায় নাই। তারা মুজিব শতবর্ষ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছে যখন নভেল করোনা দরজার দোরগোড়ায়।

চাচা আপন প্রাণ বাচা, সরকারের উপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না।

আপাতত আপনারা সবাই নিজ থেকে সাবধানতা অবলম্বন করুন। বাইরের জুতা ঘরে ঢুকাবেন না। ঘরবাড়ি (ফ্লোর, দরজার হাতল, লাইট-ফ্যান সুইচ, টিভির রিমোট ইত্যাদি) ডেটল-ফ্লিনাইল যা যা ডিসিনফেক্টেন্ট পাওয়া যায় তা দিয়ে দরকার হলে দিনে দুইবার পরিষ্কার করুন। বাইরে থেকে ঘরে পৌঁছে প্রথমেই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন ( হাতে সাবান লাগানোর পর মিনিমাম ২০ সেকেন্ড দুই হাতকে কচলে ফেনা তুলুন), বাইরের জামাকাপড় ধুতে দিন, জামার হাতায় বা রুমালে হাচিকাশি দিন। বেশি বেশি ভাইটামিন সি খান, নিজেও খান আর বাড়ির কাজের লোকজন, দারোয়ান, ড্রাইভার সবাইকে খাওয়ান আর সবাইকে জুতা বাইরে রেখে ঘরে ঢুকতে বলুন, সেই সাথে ঘরে ঢুকেই সবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুতে নির্দেশ দিন।

মুখে হাত ছোয়াবেন না, নাক খুটবেন না, ডাইরেক্ট রোদে গিয়ে বসে থাকুন, আর জনসমাবেশ এড়িয়ে চলুন।

কেবল নিজে সাবধানতা অবলম্বন করলেই হবে না, আশেপাশের সবাইকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বাধ্য করুন, উৎসাহিত করুন। কারন এই ভাইরাস একজন থেকে দ্বিতীয়জনে ছড়াচ্ছে।

ফী-আমানিল্লাহ বাংলাদেশ।

Sabina Ahmed | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-08 23:04:44