বাংলাদেশ; যাহা অন্যায়, তাহাই ন্যায়: – রেজাউল করিম রনি

বাংলাদেশ; যাহা অন্যায়, তাহাই ন্যায়:

নিতসের যে কোন লেখা অনুবাদ করা কঠিন। নিতসে সব চেয়ে জরুরী ও জটিল দার্শনিকদের একজন। দুনিয়াতে গত ১০০ বছরে( আধুনিক/ পশ্চিমে) নতুন যা চিন্তা হাজির হয়েছে তার গোড়ায় কোন না কোন ভাবে যে মহান চিন্তকের চিহ্ন লেগে আছে তিনি নিতসে। যার লেখা পাঠ করার জন্য দরকার ভাষাপূর্ব প্রজ্ঞার প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা থাকা।
তার পরেও এই লাইনটা যতটা সরল ভাবে পারা যায় অনুবাদ করে দিচ্ছি।
কারণ, বাংলাদেশে আজকে যে ভিত্তির উপর কাউকে অনৈতিক বলা হচ্ছে কালকে একই ভিত্তির উপর সেটাই নৈতিক হয়ে যাবে। হয়ে যায়। ফলে সব কিছু একই রকম থাকে কোন কিছুর গুণগত পরির্বতন হয় না।
যেমন পাকিস্তানের শাসনে যা অন্যায়, অনৈতিক ছিল আজকে তা স্বাভাবিক। ন্যায়, চেতনা, উন্নয়ণ হিসেবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
ক্ষমতায় থাকতে কেউ সম্পদ করলে স্বাভাবিক, ন্যায়। ক্ষমতায় না থাকলে অন্যায়। মূলত একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে পাবলিক একই কর্মকে একসময় ন্যায় বলছে। সময় বদলে গেলে সেটা হয়ে যাচ্ছে অন্যায়। এটা দেখাও খুব মজার মূর্খতা। এই ছদ্দ মোরালিটি নিয়ে আবার চলছে পন্ডিতি। তর্ক। তাই নিতসে এই সমস্যাটাকে এইভাবে ধরেছেন-

“To be ashamed of one's immorality—that is a step on the staircase at whose end one is also ashamed of one's morality.”
-Friedrich Nietzsche

“কেউ যখন কারো অনৈতিকতা নিয়ে লজ্জিত হবে, এটা এমন একটা প্রকৃয়া/ধাপ যেই সিঁড়ি বা প্রকৃয়ায় কেউ লজ্জিত হয় দিন শেষে সে তার নৈতিকতা নিয়েও লজ্জিত হবে।”

-নিতসে কি ভাবে বাংলাদেশের অবস্থা এতো আগে জানল এটাই ভাবছি।

Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-08-29 04:09:30