"জীবন থেকে নেয়া" নামটা যদি আমি ধার নিতে পারতাম তাহলে এই নাম দিয়ে আমি এ – আসিফ সিবগাত ভূঞা

“জীবন থেকে নেয়া” নামটা যদি আমি ধার নিতে পারতাম তাহলে এই নাম দিয়ে আমি একটা কমেডি মুভি বানাতাম। অনেক হাসির হোত সেটা। আমি এটাতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাঙালি কী করে সেটা দেখাতাম।

যেমন ধরেন আপনি করোনাভাইরাসের সিচুয়েশনে মার্কেটে গেছেন। ক্যাশিয়ারের কাছে বিল দেয়ার সময় আসছে। আপনি সবার থেকে নিরাপদ দূরত্বে আছেন। এমন সময় এক বাঙালি মধ্যবয়স্ক গান্ডু আপনার গা ঘেঁষে দাঁড়াবে। আপনি চেহারায় বিরক্তির ছাপ বিন্দুমাত্র গোপন না করে আবার দূরে গিয়ে দাঁড়াবেন। বলেন তো সে কী করবে?

সে আবার জায়গা ক্লোজ করে আপনার কাছে এসে দাঁড়াবে, মুখে থাকবে মধুর হাসি। তার ধারণা আপনি তাকে জায়গা দিয়েছেন – যেই জায়গা আসলে তার অধিকার। তার অধিকার সে বুঝে নিলো আবার অধিকার বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আপনার দিকে তাকিয়ে হাসলোও। এখন কী করা উচিৎ বলুন তো?

তাকে অন্তত আধা ঘন্টা একটা লাঠি দিয়ে জোরে জোরে পেটাতে হবে। আপনারা যারা বলবেন যে – “না ভাই, তাকে আগে ভালো করে বোঝান” – আমি সবিনয়ে এই গান্ডুর সাথে আপনাদেরও আধা ঘন্টা পেটানোর পক্ষপাতি।

না, এই পেটানো কিন্তু রাগ থেকে না মোটেই। ব্যাথা দেয়া বা লজ্জা দেয়ার উদ্দেশ্যে আপনি পেটাবেন না, ছি ছি! পেটাবেন ঐ লোকের বুদ্ধি বের করে আনার জন্য। ভালো মত মার না খেলে তার বুদ্ধি খুলবে না। আপনি হাসি মুখে মারবেন এবং বলবেন যে “ভাইটি আধাটা ঘন্টা একটু ধৈর্য্য ধরে মার খান, প্লিজ ভাইয়া আপনার ভালোর জন্য”।

এবং মারবেন সব জায়গায়। প্রতিটা বাড়ি খুব শক্ত করে লাগা দরকার। কারণ ঐ নির্দিষ্ট সময়ে বাঙালির বুদ্ধি তার শরীরের কোন জায়গায় আছে সেটা বলা সম্ভব নয়। গান্ডুটির স্বার্থেই তাকে ভীষণ রকম মারুন সব জায়গায়।

Asif Shibgat Bhuiyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-22 15:02:05