বাংলাদেশের একচুয়ালি কতো টেস্টিং কীট লাগবে? – আসিফ সিবগাত ভূঞা

বাংলাদেশের একচুয়ালি কতো টেস্টিং কীট লাগবে?

মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন এবং পৃথিবীতে এমন একজনও নাই যিনি আপনাকে সঠিক উত্তর দিতে পারবে। তবে আমরা এডুকেটেড গেস করতে পারি।

আমরা এই ক্ষেত্রে শুরু করতে পারি অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক নাম্বার দিয়ে। এখানকার ট্রেইনড প্যান্ডেমিক মডেলার যাদের কাজই হোলো প্যানডেমিকের গতিবিধি এনালাইজ করা – তারা অনুমান করছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের ২০% জনগণ প্রথম ওয়েভে আক্রান্ত হবে। এর মধ্যে ৫% এর ক্রিটিকাল কেয়ার লাগবে (হাসপাতাল সেটিংএ) – এবং ১% মারা যাবে।

আমার ধারণা ঢাকায় ২০%এর চেয়ে বেশী লোক আক্রান্ত হবে। কেন? কারণ ঘনবসতি এবং বিশেষত অতিবেকুবদের অতি ঘনবসতি। বাঙালিরা প্রছোণ্ড মরমী বলে একে -অন্যের সাথে লেপ্টায় থাকছে – দেখলাম ছবিতে। সে হিসাব না করলেও ঢাকাতে ৩০ লক্ষ লোকের সম্ভাবনা আছে – এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে।

একটি তাৎপর্যপূর্ণ আশার কথা হলো বেশীরভাগই সুস্থ হয়ে যাবেন তেমন কোনো চিকিৎসা ছাড়া। কিন্তু অন্তত দেড় লাখ লোকের ক্রিটিকাল কেয়ার লাগবে শুধুমাত্র ঢাকা শহরে এবং ৩০ হাজার লোক মারা যাবেন। অর্থাৎ আমার এই লেখাটি যদি ২৫ হাজার লোক পড়েন – তাদের মধ্যে ৫০ জনের বাবা-মার মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে আগামী ৩ থেকে ৬ মাসে। ঢাকায় দেড় লাখ লোককে হসপিটালে রাখার ব্যবস্থা আছে কি না – আমার জানা নেই (তাতে কি – আমাদের তো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আছে। হাসপাতাল থেকে অনেক জরুরী হোলো মহাকাশের বুকে বঙ্গবন্ধুর নাম)

আমরা বেস্ট কেইস সিনারিও কল্পনা করি (যেটা সিনারিও হিসাবে পায়খানা থেকে চিরকুট ছুড়ে মারার চাইতেও ড্রামাটিক) – যে আপনি শুধু তাদেরই টেস্ট করবেন যাদের রোগটা আছে। অর্থাৎ আপনার একটিও নেগেটিভ টেস্ট রেজাল্ট আসবে না। যদিও নেগেটিভ টেস্ট রেজাল্ট পজিটিভ টেস্ট রেজাল্টের চাইতে ১০ গুণ বেশি হতে পারে – ইনিশিয়ালি। কিন্তু আমরা সেই জটিল হিসাবে যাচ্ছি না। আমরা জাস্ট শিশুতোষ হিসাব করবো।

সেই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঢাকার জন্য আগামী ৬ মাসে ৩০ লাখ টেস্টিং কীটের প্রয়োজন হওয়ার কথা। বাস্তবতার খাতিরে আমরা ঢাকার বাইরের মানুষদের অমানুষ ধরে শুধুমাত্র ঢাকার মানুষদেরই মানুষ মনে করছি। সেই হিসাবেও আপনার পুরা দেশের জন্যে ৩০ লাখ টেস্টিং কীটের প্রয়োজন হবে (এখানে ১ টেসিটিং কীট = ১ পেশেন্ট ধরে নেয়া হোলো। বাস্তবে ১ কীট নিয়ে একাধিক পেশেন্টের থুতু পরীক্ষা করা যাবে) .

মনে রাখবেন, আমি বলছি শুধুমাত্র প্রথম ওয়েইভের কথা। COVID এখানে থাকতে এসেছে এট লীস্ট ৬ থেকে ১৮ মাস। সময়ের সাথে সাথে টেস্ট কীটের প্রয়োজনীয়তা বাড়তেই থাকবে।

দিস ইজ এ মনুমেন্টাল টাস্ক। বাংলাদেশে যেখানেই PCR মেশিন আছে – সরকারের উচিত হবে এই PCR মেশিন ও ল্যাব তাদের আয়ত্ত্বে আনা বা এনশিওর করা যে বাংলাদেশের সব রিসার্চ ল্যাব আগামী ছয় মাস ডায়াগনস্টিক ল্যাব হিসাবে ব্যবহৃত হবে। এবং ইমিডিয়েটলি এই ল্যাবগুলাকে অন্ততপক্ষে P3 কন্টেইনমেন্টে উন্নীত করা (প্রেফারেবলি, P4 এ কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না) .

অবস্থা বেগতিক হলে আপনাকে আসলেও সবার PCR মেশিন জোর করে ব্যবহার করতে হবে। আমি মোটেও ভয় দেখানোর কথা বলছি না। অতি স্বাভাবিক বাস্তবতা কথা বলছি।

অবশ্য শেখ হাসিনা সরকারের একটা বিশেষ সুবিধা আছে যেটা অস্ট্রেলিয়ান সরকারের নাই। যেহেতু আপনারা শেখ পরিবারের সদস্য না ও অবশ্যই সেহেতু ফোর্থ ক্লাস সিটিজেন – আপনাদের কথা তাকে চিন্তা করতে হবে না। যেই ঘটনাটা একচুয়ালি ঘটবে বাংলাদেশে সেটা হোলো ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, মিলিটারি, আমলা ও আওয়ামী রাজনীতি করনেওলা – এই চার ধরণের সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনদের চিকিৎসা দেয়া হবে (আপনারা পোষা কুত্তা! অভিবাদন! কিন্তু কুত্তাই। সরি মামা – ফার্স্ট ক্লাস সিটিজেন শুধুমাত্র শেখ পরিবারের লোকজন)। বাংলাদেশে আমার ধারণা ওপরের সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন আছেন দশ লাখের মতো। ওই দশ লাখ লোককে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের পুরাপুরি আছে এবং দেয়া হবেও।

আপনারা যারা সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন হতে পেরেছেন – মোটেও চিন্তিত হবেন না – এবং আপনাদের আমার অভিবাদন।

বাকীরা যারা আমার মতো থার্ড ও ফোর্থ ক্লাস সিটিজেন এবং এই লেখা পড়ছেন তারা আপনাদের মা-বাবাকে বিশেষ ভাবে কন্টেইন করবেন। যারা বাইরে যায় মানে নাতি নাতনি ও কাজের লোকদের থেকে পারতপক্ষে তাদের আলাদা করে রাখবেন। অসুখটা আপনার জন্য অতো ভয়ঙ্কর না – কিন্তু আপনাদের মা বাবার জন্য ফেটাল হবে। তাদের খেয়াল রাখবেন – প্লীজ ।

COVID এর চাইতে অনেক বেশী ডেডলি হবে ফুড শর্টেজ ও মূল্য বৃদ্ধি (এটা একান্তই আমার আশংকার কথা) – সেই দিকটা খেয়াল রাখবেন। আমি সারা জীবন নিজেকে এতিম মনে করেছি – মানে ধরে নিয়েছি যে – কোনো জায়গা থেকে কোনো ধরণের হেল্প আসবে না আমার জন্যে। যা করার আমাকে নিজেকেই করতে হবে। দিস মেন্টালিটি হেল্পস। সবার আগে নিজেকে এতিম ভাবা শুরু করুন।

সরকার আপনার জন্যে কিছুই করবে না।

Asif Shibgat Bhuiyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-19 09:43:18