হয়ে যাক একটি বই রিভীউ, 'অবিশ্বাসীর কাঠগড়ায়': – রেজাউল করিম ভূইয়া

হয়ে যাক একটি বই রিভীউ, 'অবিশ্বাসীর কাঠগড়ায়':
মানযূরুল কারীম হতে:
===ড. হুমায়ুন আজাদের লেখার সাথে আমার পরিচয় ঘটে হাইস্কুল লাইফে, তার পাক সার প্রথম ঘেঁটেছিলাম তবে পুরোটা পড়া হয়নি। পরে আমার এগনোস্টিক সেক্যুলার লাইফে পড়লাম নারী। একদম আগাগোড়া। এটা তার প্রথম বই যা আমি সম্পূর্ণটা পড়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা'আলা বরাবরই যৌক্তিক ও দালিলিকভাবে ভাবার নেয়ামত দিয়েছেন। তার সেই বই আমার অতটা হজম হয়নি। গোটা বই থেকে যাচাই করতে না পেরে মাত্র ২ টা তথ্য বোধহয় আমি গ্রহণ করেছিলাম। এর কারণ এটা না যে আমি এগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলাম, এর কারণ হল এগুলো যে ভুল তার প্রমাণ তখনও জানতাম না।.
.
আমি হাইস্কুল থেকে কলেজে দীর্ঘ সময় নিয়ে গোটা বাংলাপিডিয়া আলহামদুলিল্লাহ পড়েছিলাম। সেই সাথে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার সিডি থেকে যতদূর মনে পড়ে একটা বিশাল অংশ আমার পড়া ছিল। এর ফায়দা হয়েছিল যে ড. আজাদকে আমি আসলে গ্রহণ করতে পারেনি। সেই ঐ সময়েও তার লেখাকে নিম্নমানের কারচুপি, তথ্যচুরি,বিভ্রাট ও অন্ধবিশ্বাসের ফলশ্রুতি মনে হয়েছিল। যদিও নিজে আস্তিক ছিলাম না কিন্তু প্রমাণ হিসেবে ড. আজাদের বইয়ের উপস্থাপন আমার কাছে বরাবর বিরক্তিকর ঠেকত।.
.
ড. হুমায়ুন আজাদ পশ্চিমের কিছু গুণমুগ্ধ উপস্থাপনা ছাড়া নতুন কিছু দেখাতে পারেন নি, এমনকি পশ্চিমের উন্নতমানের লেখাগুলোও তার উপস্থাপনায় আসেনি, এসেছে নিম্নমানের কিছু বিষয়।.
.
কিন্তু এরপরও ড. আজাদের ভাবশিষ্যরা ঘুরেফিরে আজাদবন্দনা চালিয়ে গিয়েছে। একদমই স্বল্প জ্ঞানী ছেলেপুলেদের আজাদের বই দিয়ে কামুক নাস্তিক্যবাদে আকৃষ্ট করতে তারা নিয়ত তৎপর। ড.আজাদের নাস্তিক্যকে আমি কামুক নাস্তিক্য বলে থাকি, এটা এমনকি আদর্শিক নাস্তিকতাও না।.
.
সেই ড. আজাদের বিভিন্ন বই থেকে তার জগাখিচুড়ি মিথ্যাচার ও অন্ধবিশ্বাসকে পশ্চিমের আয়নায় খণ্ডন করে প্রিয় ডা. রাফান আহমেদ(হাফি.) লিখেছেন, “অবিশ্বাসী কাঠগড়ায়”.
.
আরবি-উর্দু-ইংরেজির বাইরে এই বন্ধের পাঠ্যতালিকায় এটা আমার ২য় বাংলা বই। বইটা প্রথম দেখেছিলাম প্রিয় হুসাইন ইপু ভাইয়ের কাছে। বেশ অনেকদিন আগের কথা। নাস্তিকতার খণ্ডনে বাংলায় লেখা বইগুলোর দিকে আমার একটু নাকছিটকানো ভাব আছে। বিভিন্ন কারণে কোনোটাই প্রায় তেমন সুবিধার লাগে না। তা সেটা যত বেস্ট সেলারই হোক। তাই তাচ্ছিল্যের সাথেই বইটা হাতে নিয়েছিলাম। কিন্তু বইয়ের বিন্যাস, রেফারেন্সিং, গ্রন্থপুঞ্জি আর নির্ঘণ্ট আমার মাঝে সম্মানের উদ্রেক করেই ছাড়ে। তখন থেকেই পড়ব বলে অপেক্ষায় ছিলাম। তবে কেনা হয়নি।.
.
আলহামদুলিল্লাহ এবার পড়েই ফেললাম। ড. আজাদের ভুলগুলো বিস্তারিতভাবে প্রিয় লেখক তুলে ধরেছেন ও খণ্ডন করেছেন। ২৮৯ পৃষ্ঠার বইটা পড়তে মোটেও বিরক্তি আসেনা, এর ভাষাশৈলিও সাবলীল ও প্রাণবন্ত, সুষমাময়। তীক্ষ্ণ যুক্তি ও শক্তিশালী দলীলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করা হয়েছে। আজাদ বেঁচে থাকলে তার অভিব্যাক্তি কী হত জানতে বড্ড ইচ্ছে করছে।.
.
সাধারণত যারা এরকম টপিকে বই লিখেন তাঁদের কমন সমস্যা হচ্ছে ইসলামের নিজস্ব অবস্থান ব্যাখ্যায় তারা ভুল করেন। এরপর সেই ভুল অবস্থানকে যুক্তিতর্ক ও দলীলের আলোকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেন। আলহামদুলিল্লাহ, ডা. রাফান এই পথে হাঁটেন নি;বরং গোটা বইতেই ইসলামের অবস্থান বিশুদ্ধভাবে তুলে ধরেছেন।.
.
ডা. রাফান এতে যে বেফারেন্সিং পদ্ধতি ও ইন্ডেক্স যুক্ত করেছেন এটা আমার বহুদিনের সাধের একটা জিনিস। খুব ইচ্ছা ছিল ইসলামী ভাবধারায় এরকম বই হবে, আলহামদুলিল্লাহ দেখা হল।.
.
এই বইটি সাজাতে লেখক যে বিপুল পরিমাণ গ্রন্থ পড়েছেন সেগুলোই পৃথকভাবে আমার জন্য একটা আকর্ষণীয় পড়ার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাফান ভাইয়ের নামে একটা ফোল্ডার খুলে এরকম বেশ কিছু বই তাতে আমি জমা করেছি।.
.
আল্লাহ তা'আলা লেখকের ইলম ও আমলে বারাকাহ দিন, এই খিদমতের ধারা জারি রাখুন। উনার বিশ্বাসের যৌক্তিকতা বইটা এখনো পড়া হয়নি। দেখি ইন শা আল্লাহ কখনো জোগাড় করে ফেলবখন।.
.
অবিশ্বাসী কাঠগড়ায় বইটা প্রকাশ করেছে সমর্পণ প্রকাশ। মুদ্রিত মূল্য ৪১৭ টাকা। আমার জানামতে বাংলাবাজারে গেলে ৩৫% ছাড়ে পাওয়া যেতে পারে।.
.
রাফান ভাইয়ের দুই বই শেষ করে আমার বেশ আফসোস হচ্ছে। মনে হচ্ছে কী যেন শেষ হয়ে গেল… বিষয়টা রবীঠাকুরের ছোটগল্পের মত হয়ে গেল…
===

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-04-01 23:32:54