সুতরাং আমি যে লেখাটা দিয়েছিলাম ইয়াসির কাদীর ব্যাপারে সেটার বিপরীতে ঐ লেখক আরেকটা – আসিফ সিবগাত ভূঞা

সুতরাং আমি যে লেখাটা দিয়েছিলাম ইয়াসির কাদীর ব্যাপারে সেটার বিপরীতে ঐ লেখক আরেকটা লেখা দিয়েছেন।

তার প্রথম লেখা যেটার ব্যাপারে আমি লিখেছিলাম সেটাতে ছিলো এলজিবিটিই গ্রুপের কার্যকলাপ নিয়ে বিরাট আলোচনা নিজের আরগুমেন্টকে ভারি দেখানোর জন্য। এটার কোনো দরকার ছিলো না কেননা এলজিবিটিই গ্রুপের কার্যকলাপ এরকমই হওয়ার কথা, এটা আমিও জানি, ইয়াসির কাদীরাও জানে এবং দুনিয়ার সবাই জানে। ইন ফ্যাক্ট যে কোনো অ্যাক্টিভ গ্রুপকে যদি আপনি অপছন্দ করেন তাহলে তাদের কাজকে আপনি এরকম গভীর কন্সপিরেসির পার্ট হিসেবে দেখাতে পারবেন। যেমন ধরুন একজন নন-মুসলিম ইসলামোফোব – যে ইসলামকে ঘৃণা করে। সে চাইলেই বহু রিসার্চ করে দেখাতে পারবে যে সাধারণ মুসলিমরা মুখে যাই বলুক না কেন এদের ভেতরের কার্যকলাপ, 'আলেম ওলামাদের কথাবার্তা থেকে প্রমাণ করা যায় – ইউটিউব ও অন্যান্য লিঙ্ক সহ – যে মুসলিমরা আসলে বিভিন্ন হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশনের জন্য ওঁত পেতে বসে আছে – মিসোজিনিস্ট কার্যকলাপ, ফিমেইল জেনিটাল মিউটিলেশন, অমুসলিমদের হত্যা করা ইত্যাদি। এখানে কোনটা ভুল ও কোনটা সত্যি এবং মোরালিটির আলোচনাটা কীভাবে হওয়া উচিৎ সেটা না করে এই ইনসেনসিটিভ হেইট মঙারিঙে শুধু হেইট চলতে থাকবে। তাই সঙ্গত কারণেই আমি মোরালিটির মূল প্রশ্নে এবং তাকলীফের আলোচনায় গিয়েছিলাম।

লেখক আমার লেখার কাউন্টারে তার পরবর্তী লেখার পুরোটা ব্যয় করেছেন আমি কোথায় স্ট্র ম্যান ফ্যালাসি করেছি সেটা বোঝাতে। স্ট্র ম্যান ফ্যালাসি আমি করি নাই, আমি আসলে এই লেখককে আমলেই নেই নাই। যেহেতু এর সাথে এবং এর সমর্থকদের সাথে তর্ক চালিয়ে যাবার কোনও ইচ্ছাই আমার নেই, তাই আমার মূল লক্ষ্য ছিলো আমার পাঠক যারা তারা যেন সংক্ষেপে এই আলোচনার মূল জায়গা বুঝে নেন। সেটা নিয়ে আলোচনায় না গিয়ে সে বিশাল পোস্ট দিয়েছে ছবি টবি সহ যে আমি স্ট্র ম্যান ফ্যালাসি করছি। এই হইলো সিউডো ইন্টেলেকচুয়ালিজ্‌ম, মূল তর্কে না গিয়ে কিছু ইন্টেলেকচুয়ালিজ্‌মের নমুনা দেখিয়ে নিজেকে রেলেভেন্ট রাখা।

ইয়াসির কাদীর আসল ভুল নাকি ওমার সুলায়মানদের অন্যান্য মাইনরিটি গ্রুপের সাথে (ইনক্লুডিং এলজিবিটিই) রাজনৈতিক সখ্যতাকে ইজতিহাদ এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্স বলা। এটা একেবারে সম্পূর্ণ সঠিক। এবং সেজন্য এগেন আপনাকে পলিটিকাল ইসলামের উসূল জানতে হবে। পলিটিকাল ইসলামের প্রধান উসূল হচ্ছে সেই জালবুল-মাসলাহা ও দার-উল মাফসাদা বা রাজনৈতিক কস্ট বেনিফিট বা কল্যাণ অকল্যাণকে পরিমাপ করা। সেটা করতে গিয়ে ইয়াসির কাদী বা ওমার সুলাইমান ভুল করতে পারেন যেটা কিনা পশ্চিমা অন্যান্য কয়েকজন স্কলারের মতে তারা করেছেন – কিন্তু সেটা ইজতিহাদের ভুল এবং জ্ঞানের জায়গা থেকে সেটা তারা করেছেন। সেজন্য ইয়াসির কাদী বা ওমার সুলাইমানের কাছ থেকে দূরে থাকুন বা ইয়াসির কাদী বেশি ভয়ঙ্কর – এইরকম পোস্ট দেয়ার কিছু হয় নাই। আপনারা শায়েখ আহমাদ আল-গামিদীর (উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটির আকীদার প্রফেসর, ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন) তাজদীদ আল-ফিকহিস-সিয়াসী ফীল-মুজাতামা আল-ইসলামী বইটি পড়ে দেখতে পারেন। এই আকীদার শিক্ষক পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে ক্লাসিকাল পলিটিকাল ইসলাম নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এখনকার সময়ে পলিটিকাল ইসলামের গতি প্রকৃতি কেমন হবে তা নিয়েও আলোচনা করেছেন (আমি বইটি অনুবাদ করছি)। সেখানে তিনি 'আকীদা ও রাজনীতির ডোমেইনকে কীভাবে আলাদা করতে হয় দেখিয়েছেন এবং এও দেখিয়েছেন যে রাজনীতির মূল প্রিন্সিপ্‌ল হোলো কল্যাণ ও অকল্যাণের সেই স্ট্র্যাটেজিক চিন্তা যা নিয়ে আমি আগের পোস্টেও বলেছি এবং এই পোস্টেও বললাম।

আমি নিজের কথা রাখতে পারলাম না। বলেছিলাম একবারই পোস্ট দেব। কিন্তু আরেকবার দিলাম। এদের ঘাড় তেড়ামিটা খেয়াল করবেন। এত এফোর্ট, এত লজিকাল আর্গুমেন্ট এই জন্য যে তাদের ইয়াসির কাদীদের এগেইন্সটে বলতেই হবে, এটা তাদের 'ইসলাম রক্ষার' জিহাদ হয়ে গেছে। তার মনে এতটুকু ভয় বা দ্বিধা নাই যে এই কাজে তার চিন্তার ভুল হলে সেই কন্সিকয়েন্স কোথায় দাঁড়াতে পারে। দেশে ভন্ড পীর ফকিরের অভাব নাই, শিরকি কথা বার্তা বলা লোকের অভাব নাই। তবুও যার ঈমান ঠিক থাকার তার ঈমান ঠিকই থাকে। কিন্তু ইয়াসির কাদীকে তার ঠেকাতেই হবে। কেউ তার মতো করে আনকম্প্রোমাইজিংলি ইসলাম বুঝতেই পারছে না, সবাই ধোঁকা খাচ্ছে। এদের মতো নন-স্কলার নিজে নিজে জ্ঞানীরা এখন এসে বাঁচালে রক্ষা।

এদের সাথে আলোচনা চালায় যাওয়া কোনও কাজের কথা হতে পারে না। ইয়াসির কাদী নয়, বরং এদের বর্জন করুন। এরা কেউই না, কখনও কেউ ছিলো না, কখনও কেউ হবেও না। এরা এবং এদের সমর্থকদের অ্যাভয়েড করে চলবেন।

এবার সত্যি সত্যি ইস্তফা দিলাম।

Asif Shibgat Bhuiyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-11 12:59:50