করোনার কারনে কি বাংলাদেশে জরুরী অবস্থা কি জারি করা উচিত? – রেজাউল করিম ভূইয়া

করোনার কারনে কি বাংলাদেশে জরুরী অবস্থা কি জারি করা উচিত?
====
আসলে পশ্চিমা বিশ্ব আর বাংলাদেশ আলাদা। যে কাজ পশ্চিমা বিশ্বে যেভাবে হয়, সে কাজ বাংলাদেশে সেভাবে হয়না। লীগাল ফ্রেমওয়ার্ক অন্যরকম তো। জরুরী অবস্থাটাও সেরকম।

আসলে আমেরিকার লীগাল ফ্রেমওয়ার্ক আর বাংলাদেশের লীগাল ফ্রেমওয়ার্ক কমপ্লীট আলাদা। আমেরিকা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। ফেডারেল সরকার আর লোকাল সরকার আলাদা। প্রতিটা রাজ্য আসলে মূলত লোকাল সরকারই চালায়। ফেডারেল সরকারের হাতে ক্ষমতা খুব সীমিত।

ফেডারেল সরকারের আসল ক্ষমতা বৈদেশিক নীতি, মুদ্রানীতি এবং সামরিক বাহিনীর উপর। মানে দেশের বাইরের ব্যাপারে। দেশের ভিতরে রাজ্য সরকার সবকিছু চালায়।

এখন আমেরিকায় করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ফেডারেল সরকারকে কেন্দ্রীয়ভাবে সব রাজ্য সরকারকে হেল্প করতে হয়। টাকা পয়সা – সেনাবাহিনীর হেল্প সহ সব কিছু দিয়ে ফেডারেল সরকার রাজ্য সরকারকে হেল্প করতে পারে। কিন্তু সাধারন আইনী উপায়ে তা সম্ভব না, কারন ফেডারেল সরকারের তেমন কোন নিয়ন্ত্রন রাজ্য সরকারের উপর নাই।

এজন্য এমেরিকা স্টেইট অব ইমার্জেন্সী ডিক্লেয়ার করে ফেডারেল সরকার এর স্ট্রেংথকে বৃদ্ধি করেছে, রাজ্য সরকারগুলোর অনুরোধেই। কেন্দ্রীয়ভাবে এখন আমেরিকাল ফেডারেল সরকার শক্তিশালী হয়েছে, এবং সব রাজ্যে বিলিয়ন ডলার হেল্প করতে পারছে। ইউরোপের অনেক দেশেই লীগাল ফ্রেমওয়ার্ক এমন যে ইমার্জেন্সী ডিক্লেয়ার করলে হেল্প হয়, এজন্য তারা করতেছে।

====

ইন্ডিয়াও কিছুটা এমন, কারন সেখানেও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।

===
এজন্য যেসব দেশ ফেডারেল সিস্টেমে চলে সেসব দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে স্টেইট অব ইমার্জেন্সী দরকার।

====
কিন্তু যেসব দেশ এক কক্ষ বিশিষ্ট, সেসব দেশে কেন্দ্রীয় সরকার আর ফেডারেল সরকার আসলে অলরেডী কেন্দ্রীভূত আছে। সেসব দেশে সরকারের হাতে অলরেডী সকল পাওয়ার দেয়া আছে , করোনা নিয়ন্ত্রনের জন্য।

সেসব দেশে 'স্টেইট অব ইমার্জেন্সী' দরকার নেই।
===
যেমন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এক কক্ষবিশিষ্ট , সব ক্ষমতার কেন্দ্র ঢাকা। এবং ঢাকার হাতে অলরেডী কন্সটিটিউশনালী আন ইমাজিনেবল পাওয়ার কেন্দ্রিভূত আছে। ঢাকার ইচ্ছের বাহিরে রাজশাহী – নওগা – কুমিল্লা কিছুই করতে পারেনা।

কাজেই বাংলাদেশে স্টেইট অব ইমার্জেন্সীর আসলে কোন প্রয়োজন নাই। আর বাংলাদেশে ইমার্জেন্সী ডিক্লেয়ার করলে জনগনের যাবতীয় প্রয়াস আসলে বাধাপ্রাপ্ত হবার সম্ভাবনা, মানুষের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হবার সম্ভাবনা, এবং হিউম্যান রাইটস আরো বেশী ভায়োলেট হবার সম্ভাবনা। (ইমার্জেন্সী দিলে বরং এই সন্দেহ আসবে যে এটাতে খারাপ রাজনৈতিক ইনটেনশন আছে।)

কারন বাংলাদেশের স্টেইট অব ইমার্জেন্সী আসলে , লীগাল পয়েন্ট অব ভিউ থেকে, কোন যুদ্ধকালীন বা সিভিল ওয়ার বা পলিটিকাল আনস্ট্যাবিলিটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, মেডিকেল ইমার্জেন্সীর জন্য না।

সেজন্য দেশে অকারন ইমার্জেন্সী ডিক্লেয়ার করে কোন লাভ নয়, বরং ক্ষতি হবে। কারন জনগন নিজে থেকে নিজেকে বাচানোর জন্য যা করতে পারতো, তা অকারনে বাধাগ্রস্থ হবে।

====

বাংলাদেশে এখন মেডিকেল ইমার্জেন্সী চলছে, পলিটিকাল ইমার্জেন্সী চলছে না। মেডিকেল ইমার্জেন্সীর নিয়ন্ত্রনের জন্য সকল ক্ষমতা আসলে সরকারের হাতে অলরেডী কন্সটিটিউশনালী দেয়া আছে।

===
এজন্য অকারনে ইমার্জেন্সী চাইবেন না, বা দিলে ভাল হবে, তা ভাববেন না।

এটা খারাপ হবে, খুব খারাপ ।
এটা গান্ডূ দের ভাবনা মাত্র।
===

মাথায় রাখবেন।

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-22 01:23:10