মাস্ক ব্যবহার করুন। – জিয়া হাসান

মাস্ক ব্যবহার করুন।
—————————
মাস্কের ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এবং মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থা সেন্টার ফর ডিজেজ কন্ট্রল এবং প্রিভেনশানের পরামর্শ ছিল, হেলথ কেয়ার কর্মীদের মাস্ক পড়তে হবে কিন্তু, সবার জন্যে মাস্ক পড়া জরুরী নয়।
পুরো বিশ্ব দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল মাস্কের ব্যবহার নিয়ে।
এই বিতর্কের বিপক্ষের যুক্তি ছিল, মাস্ক যারা পরবে তারা মুখে হাত দিবে মাস্ক ঠিক করতে তাই মাস্ক না পরাই ভালো। কিন্তু রোগীদের মাস্ক পড়তে হবে এবং যারা রোগীদের যত্ন নিচ্ছে তাদের মাস্ক পড়তে হবে।
এবং বিশেষত N95 মাস্ক যা খুবই কার্যকরী সেইটা নিয়ে প্রশাসকেরা ভয় পাচ্ছিল যে,যদি সাধারণ জনগনকে মাস্ক পড়তে পরামর্শ দেওয়া হয় তবে, জনগণ মৌজুদ শুরু করবে তার ফলে মাস্কের সংকট শুরু হবে এবং তার ফলে দেখা যাবে হেলথ কেয়ার কর্মীরাই মাস্ক পাচ্ছেনা।

কিন্তু পক্ষের যুক্তি ছিল, মাস্ক একটা প্রতিরক্ষা ব্যূহ তৈরি করে যা ভাইরাসের সংক্রমণ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দূর করতে পারে।এমনকি সাধারণ একটা কাপড়ের টুকরা থাকলেও প্রতিরক্ষা হয় যার ফলে ভাইরাসের মুখের ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ কমে আসে। তাই, মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

শেষ পর্যন্ত অনেক গুলো দেশ মাস্ক পড়তে জনগণকে পরামর্শ দেয় নাই। অনেকে দিয়েছে।

কিন্তু কয়েক দিনে বেশ কয়েকটা গবেষণা সামনে এসেছে এবং মাস্ক বিতর্কে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে, যে সব দেশে মাস্ক পড়তে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে অন্যান্য সকল ফ্যাক্টর বিবেচনার পরে দেখা যাচ্ছে তুলনামূলক ভাবে যে সকল দেশে মাস্ক পড়েছে তাদের সংক্রমণ কম হয়েছে।

ভয়টা হচ্ছে, যেহেতু করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরে একজন ব্যক্তি প্রায় ১৫ দিন সময় নিতে পারে তার লক্ষন প্রকাশের জন্য অথবা অনেকের লক্ষণ দেখা নাউ দিতে পারে। সম্ভাবনা আছে আপনার পাশের সম্পূর্ণ সুস্থ একজন ব্যক্তির মাধ্যমে আপনি সংক্রমিত হতে পারেন।

ফলে যে দেশ গুলো এতো দিন মাস্ক পরার পরামর্শ দেয় নাই, তাদের মনোভাব পরিবর্তিত হচ্ছে। যদিও হু এবং সিডিসি এখনো তাদের পরামর্শ পরিবর্তন করে নাই। তাই, এই মুহূর্তে বিতর্ক মাস্ক পক্ষ জয়ী
ফলে প্রায় দেশ গুলো, এখন মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছে। অনেকের অবস্থান পরিবর্তিত হচ্ছে।

এই বিতর্কে একটা জিনিষ আমরা বুঝতে পারি, মানব জাতি এখনো এই ভাইরাসটি সম্পর্কে কত কম জানে। জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কত মৌলিক বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিতে সক্ষম নয়, বিশ্বের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারক সংস্থা গুলো।

তাই, মাস্ক ব্যবহার করুন।ঘরে থাকতেও মাস্ক পড়ুন। কাছের মানুষের সাথে চলাফেরার সময়েও মাস্ক ব্যবহার করুন
যদি ভালো মাস্ক না পান, তবে, সেলাই করে হাতে বানিয়ে প্রটেকশান নিন। সামান্য একটি কাপড়ের টুকরা বা কাগজের টুকরা ভাইরাস সংক্রমনের সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে পারে।

সবাই মাস্ক ব্যবহার করুন।



Zia Hassan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-04-03 18:35:07