সাপ্লাই চেইন থিওরিতে একটা খুব ইন্টারেস্টিং মূলনীতি আছে। এ মূলনীতিটি বলে একটি সা – জিয়া হাসান

সাপ্লাই চেইন থিওরিতে একটা খুব ইন্টারেস্টিং মূলনীতি আছে। এ মূলনীতিটি বলে একটি সাপ্লাই চেইনের সামর্থ্য, পুরো সিস্টেমের সবচেয়ে দুর্বল পয়েন্ট এর সামর্থের সমান।

এর মানে হচ্ছে, একটা দেশে ১ লক্ষ ট্রাক থাকতে পারে। কিন্তু ঐ দেশের তেলের পাম্পের দৈনিক তেল সরবরাহের পরিমাণ যদি সর্বোচ্চ দশ হাজার ট্রাক হয় তবে উক্ত দেশে ৯০,০০০ ট্রাককে বসে থাকতে হবে।

করোনা ভাইরাস এর ক্ষেত্রেও এই সূত্রটি প্রযোজ্য। আপনার দেশে , আইসোলেশন ওয়ার্ড, অক্সিজেন, করোনা ভাইরাস টেস্টিং এর জন্য সিটি স্ক্যান, ইত্যাদির মিলে যে ক্ষমতা আছে সেটাই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কোন ভাইরাস বিস্তার লাভ করলে কতজন মানুষ তার সঠিক চিকিৎসা পাবে। এ ধরনের সকল ফ্যাসিলিটি সহ বাংলাদেশের সব মিলিয়ে এক হাজার রোগীর চিকিৎসা সামর্থ্য আছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকার রিপোর্টে দেখতে পাচ্ছি আমেরিকার মত দেশে মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না, সিমপটম দেখা দেওয়ার পরও টেস্টিং করতে পারছে না- কারণ তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা এত বড় স্কেলে রোগীদেরকে ট্রিট করতে সক্ষম নয়।

বাংলাদেশের অবস্থা যে কি সেটা চিন্তা করো ভয় পাচ্ছি। কারণ এই ধরনের উচ্চমানের চিকিৎসার যন্ত্রপাতি শুধুমাত্র অত্যন্ত বড়লোকদের জন্যই আছে। এখন বড়লোকদের মধ্যেও আছে সুপার বড়লোক।
আমাদের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।

ফলে যেটা হবে, করোনা যদি বিস্তার লাভ করে এই অল্প কিছু বেড এবং যন্ত্রপাতি এইটা সুপার বড়লোক দেব চিকিৎসার জন্য ব্যয় হবে।
নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত কোন ধরনের চিকিৎসায় পাবেনা।

ফলে বাংলাদেশের যদি করোনা বিস্তার লাভ করে এটা একটা ভয়ঙ্কর রূপ নিবে।

আমার বেশ কিছু ডাক্তার বন্ধু আশ্বস্ত করতে চাচ্ছেন যে করোনা অন্যান্য সিজনাল ফ্লু থেকে অত ভয়ঙ্কর কিছু না। কিন্তু ইতালিতে ১৫ হাজার লোকের মধ্যে ১০০০ মরে গেছে।

সারা পৃথিবী যেভাবে প্রিপারেশন নিচ্ছে তাতে তাদের সে আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছি না। অনেকের মধ্যে অনেক ধরনের কগনিটিভ বায়োস কাজ করছে।

বটম লাইন হচ্ছে , কত পার্সেন্ট রোগী করলে আক্রান্ত হলে কত শতাংশমৃত্যুবরণ করে সেটা বড় সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে যে লোকটা বেঁচে থাকার কথা তাদের কত পার্সেন্ট ফ্যাটালিটির মুখোমুখি হয় ।
সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

উন্নত বিশ্ব সিঙ্গাপুর জাপান বা অন্যান্য দেশগুলো এমনকি ভুটান ,ভারত করোনা রোগ ম্যানেজ করে নিবে।
কিন্তু বাংলাদেশে সোশ্যাল অর্গানাইজেশন, সরকার, সমন্বয় ,চিকিৎসাব্যবস্থা সব ধ্বংসের মুখে।

বাংলাদেশি যদি করোনা বিস্তার লাভ করে, সাপ্লাই চেইন থিওরিতে বলা সবচেয়ে উইকেসট লিংক দিয়ে নির্ধারিত হবে কতজন লোক চিকিৎসা পাবে ,কতজন লোক সারবে এবং কতজন লোক মৃত্যুবরণ করবে।
চায়না আমেরিকার অভিজ্ঞতা থেকে জানা করোনা ট্রিটমেন্টের সুস্থতার হারের পার্সেন্টেজ রেশিও দিয়ে নয়।

Zia Hassan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-13 00:08:11