খেলোয়াড়রা মিলিয়ন ডলার পায়, গবেষকরা পায় না কেনো- এটার ব্যাখ্যা জটিল কিছু না। তারপ – এএসএম ফখরুল ইসলাম

খেলোয়াড়রা মিলিয়ন ডলার পায়, গবেষকরা পায় না কেনো- এটার ব্যাখ্যা জটিল কিছু না। তারপরও দুইটা দিক আলোচনা করবো। একটা অবভিয়াস। আরেকটা, অনেকের কাছে, মেবি নট সো মাচ।

অবভিয়াস পয়েন্ট হচ্ছে, মানুষ খেলা দেখে, সুতরাং স্পন্সররা খেলা ও খেলোয়াড়দের স্পন্সর করে। খেলোয়াড়দের মূল উপার্জনটা সেখান থেকে আসে। যে কারণে পৃথিবীব্যাপী মেয়ে অ্যাথলিটদের উপার্জন পুরুষ অ্যাথলিটদের উপার্জনের চেয়ে কম। কারণ ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের খেলা খুবই স্লো ও বোরিং। চেতনার উদ্দেশ্য ছাড়া মেয়েদের খেলা কেউ দেখে না। আবার একজন ফুটবলার যত টাকা উপার্জন করে একজন খো খো প্লেয়ার একই পরিমাণ টাকা উপার্জন করে না।

তার মানে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র গবেষকদেরই বেতন কম না। খেলোয়াড়দেরও বেতন কম হয়ে থাকে। নির্ভর করে সেটা কত মানুষ দেখছে তার উপর।

সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় যে পয়েন্ট আসে সেটি হচ্ছে, তাহলে দেখা যাচ্ছে দোষটা আসলে মানুষের। মানুষ রিসার্চের ব্যাপারে আগ্রহী না হয়ে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী হয় বিধায় রিসার্চাররা মূল্যায়ন পাচ্ছে না।

ইয়েস অ্যান্ড নো। এখানে ঘটনা হচ্ছে রিটার্নের। খেলা দেখার রিটার্নটা হাতে-নাতে পাওয়া যায়। মুড়ি নিয়ে বসবেন। খেতে খেতে খেলা দেখা শেষে উঠে চলে যাবেন। পয়সা উসুল। গবেষণার ফলাফল এরকম হাতেনাতে পাওয়া যায় না। গবেষণা খুবই দীর্ঘ বোরিং একটি প্রক্রিয়া। এই বোরিং প্রক্রিয়া শেষেও ফলাফল গ্যারান্টিড না। পৃথিবীতে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। সব গবেষণা গ্রাউন্ডব্রেকিং, কিংবা নিতান্ত সন্তোষজনক, ফলাফল নিয়ে আসছে না।

চিন্তা করে দেখেন, আপনার নামাজ পড়তে ভালো লাগে না কেনো। কারণ আপনি নামাজ পড়ার ফল বা না পড়ার শাস্তি হাতেনাতে পান না। যে কারণে সারাবছর আমাদের পড়ালেখা করতে ভালো লাগে না। কেবলমাত্র পরীক্ষা ঘনিয়ে আসলেই আমাদের পড়াশোনার জোশ আসে। কারণ তখন ফলাফলের সময় ঘনিয়ে আসে।

তার মানে, যেটার ফল হাতেনাতে পাওয়া যায় না সেটা নিয়ে আমরা একইরকম কেয়ার করি না বা, মোর অ্যাকুরেটলি, এনগেইজড হই না। এটাকে মানুষের দোষ হিসেবেও দেখাতে পারেন, আবার মানবীয় সীমাবদ্ধতা হিসেবেও দেখতে পারেন। কিন্তু যে সীমাবদ্ধতা সকল মানুষের রয়েছে সেটা আসলে বাগ না, ফিচার। সে হিসেবে আলাদা করে কারো প্রতি ফিঙ্গার পয়েন্ট করার সুযোগ সেভাবে নাই। কারণ যিনি ফিঙ্গার পয়েন্ট করবেন তিনি নিজেও একই দোষে দুষ্ট।

Asm Fakhrul Islam | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-17 23:34:07