লকডাউন জারী থাকবে নাকি লকডাউন খুলে ফ্রিডম ফিরায় দেয়া হবে এই উপলক্ষে অনলাইনে ব্রা – ইমতিয়াজ মির্জা

লকডাউন জারী থাকবে নাকি লকডাউন খুলে ফ্রিডম ফিরায় দেয়া হবে এই উপলক্ষে অনলাইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্য অনুসারে একটা টেটা ম্যাচ চালু করা দাবী জানায় গেলাম।

#########################

লকডাউন কেন দরকার ছিলো? উহান যদি ৩ সপ্তাহ আগে লকডাউন করতো তাহলে ৯৫% কেস ছড়াতো না চায়নাতে, করোনা ভাইরাস পৃথিবী ব্যপি ছড়ানোর আগেই অনেক ব্যবস্থা নেয়া যেতো।
ইটালি ফেব্রুয়ারীতে গান-বাজানা খানা-পিনা সবই করসে, মার্চ-এপ্রিলে এসে তাদের দেশে ২৭ হাজার লোক নাই।
আমেরিকাতে মার্চে এসেও গানা-বাজানা খানা-পিনা সেলুনে যাওয়া বীচে নাচাকুদা করসে আমেরিকাতে ৬১ হাজার লোক নাই এখন।

যারা গরীবের বন্ধু(আসলে নিজের স্বার্থের ) বন্ধু সাজছেন এই দিনে গরীব কী খাবে বলে তাদের জন্য বলি, লকডাউন প্রতিটা দেশের জন্য দরকার ছিলো কারন হঠাৎ করে এতো চাপ সামলানোর ক্ষমতা পৃথিবীর সবচে ভালো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেশেও নাই। হাসপাতাল গুলোকে চাপ সামলাতে দেয়ার জন্য, স্ট্রাটেজি ঠিক করার জন্য লকডাউন দরকার ছিলো।

বাংলাদেশে লকডাউন না করে আপনারা বাণিজ্য করতেন কার সাথে?
কোন দেশে লোক পাঠাতেন?

ইটালি স্পেনে যেভাবে লোক মারা যাচ্ছিলো তাতে আতংকিত না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। হতে পারে ভাইরাস কিভাবে কাজ করে আপনার জানা নাই, প্যানডেমিকের ভয়াবহতা সম্পর্কে কোন ধারনা নাই, পাছা দিয়ে পাহাড় ঠেলার মতো “গরীব খাবে কী” এই যুক্তি দিয়ে আপনি লকডাউনের বিরোধীতা করেছেন। সেই সময়ে লকডাউন সঠিক পলেসি ছিলো, আর বাংলাদেশে তখন শ্বাসকষ্টে রোগী মারা যাওয়া মাত্রই শুরু হয়েছে।

লকডাউনটা স্ট্রাটেজি ঠিক করার জন্য দরকার ছিলো, হেলথকেয়ার সিস্টেমকে ব্রিদিং স্পেস দেয়ার জন্য দরকার ছিলো, বাংলাদেশের হেলথকেয়ার সিস্টেম থেকে হাজার কোটি টাকা চুরি করে যে ফোপরা বানায় দেয়া হয়েছে, কোন ধরনের বড়ো বিপদে ইয়া নফসি করা ছাড়া যে আপনার কোন উপায় নাই সেটা দেখানোর জন্য লকডাউন দরকার ছিলো।

এখন আপনি সুইডেনের উদাহরন দিবেন, সুইডেন একটা স্পেসিফিক স্ট্রাটেজি নিয়ে আগাইসে, ওদের হেলথ কেয়ার সিস্টেম তৈরী ছিলো আর ক্যাপেবলও ছিলো। তাদের জনসংখ্য কম, তাই তারা হ্যার্ড ইমিউনিটিতে গেসে। সুইডেনের কেসটা আসলে মিক্সড রেজাল্ট এখনো পর্যন্ত, ওখানে ২৫০০ লোক মারা গেসে এখন পর্যন্ত, অথচ পাশের দেশ নরওয়েতে যেখানে লকডাউন করেছে সেখানে মারা গেসে ২০০।

#################

বাংলাদেশে, ভারত, পাকিস্তান এইসব দেশগুলো আরো লাকি কারন করোনা ভাইরাসে একটা দুর্বল স্ট্রেইন এসব দেশে আক্রমন করেছে।
আরো একটা থিওরী ভাসছে বাতাসে যে বিসিজি টিকা দেয়ার কারনে এসব দেশে করোনা দাত বসাতে পারে নাই।

#################

লকডাউন মানে চিরকালীন লকডাউন না এটা তো জানাই ছিলো। এখন যেহেতু লকডাউন তুলে দেয়া হবে, স্পেসিফিক সিস্টেম অনুযায়ী তোলা উচিত।

কানাডাতে লকডাউন তোলা হচ্ছে তিন ধাপে। প্রথমে জরুরী কাজ জরুরী দোকান গুলো খোলা হবে, ছোট গ্যাদারিং এ্যালাউ করা হবে।
বন্ধুদের সাথে দেখার অনুমতি মিলবে।
২য় ধাপে দাওয়াত করার অনুমতি মিলবে, পার্ক গুলো খোলা হবে
৩য় ধাপে সোস্যাল গ্যাদারিং, বড়ো জমায়েত করার অনুমতি মিলবে, স্কুল খুলে দেয়া হবে ।

আশাকরি বাংলাদেশ সরকার ধাপে ধাপে লকডাউন খোলার ব্যাপারে স্ট্রাটাজি নিবে।

লকডাউন তুলে ফেলা হচ্ছে মানে বাইরে গিয়ে লোকের সাথে কোলাকুলি আর মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া না। পার্সোনাল ডিস্টেন্স মেইনটেইন করতে হবে, আপনি নিজে নিজের লকডাউন মেইনটেইন করতে পারেন, পার্সোনাল প্রিকশন নিতে পারেন।

কভিড-১৯ এর আগের স্বাভাবিক পৃথিবীতে ফিরতে এখনো আমাদের আরো ২ বছর লাগবে। তবে সেটা লকডাউন না, স্পেসিফিক নিয়মকানুন মেনে চলার ব্যাপারটা।
#করোনাডাইরীজ #লকডাউনক্যাচাল

Imtiaz Mirza | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-04-30 18:56:36