১। COVID-19 এর কারনে লখের বেশী আদম সন্তান নিহত। পৃথিবীর বড়ো অংশের জনগণ লকডাউনে দ – ইমতিয়াজ মির্জা

১। COVID-19 এর কারনে লখের বেশী আদম সন্তান নিহত। পৃথিবীর বড়ো অংশের জনগণ লকডাউনে দিন কাটাচ্ছে। তারচে আরো বেশী মারাত্মক সংবাদ হচ্ছে বিশ্বের ইকোনমির পিছনে বিশাল বড়ো বংশদন্ড ভরে দিসে এই ভাইরাস। বিশ্ব ইকোনমি নাকি ৩ ভাগের ২ ভাগ শ্রিংক করবে।
বসে বসে চিন্তা করছিলাম এই যে মানুষ ঘরে বসে আছে কাজে যেতে পারছে না এটা আসলে বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য শাপে বর।
রাস্তার মধ্যে বের হয়ে ট্রাফিক জ্যাম, ধুয়া – ধুলা, ট্রেন – বাস ধরার জন্য ছুটোছুটি, সকালের এ্যালার্ম ক্লকের কারনে শান্তির ঘুম ভেঙ্গে দৌড়িদৌড়ি, অফিসে দজ্জাল বস আর রামছাগল সহকর্মীদের থেকে নিস্কৃতি, সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার তাড়া থেকে মুক্তি।
সোস্যাল আইসোলেসনে বসে বহু সংখ্যক মানুষ এই সময়টা তাদের মানসিক ক্ষত সারায় নিতে পারবে।

২। আমাদের শারিরীক সমস্যাগুলোর জন্য আমরা খুব দৌড়াদৌড়ি করি, কিন্তু আমাদের মানসিক সমস্যা গুলো নিয়ে আমরা নিজেরা তো বেশী চিন্তা করিই না, সমাজেও এগুলোকে ট্যাবু হিসাবে দেখা হয়। পুরুষ হলে বলা শক্ত পুরুষ হও আর মেয়ে হলে বলা হয় সহ্য করে যাও।
মানসিক সমস্যা গুলো আমাদের দাত পরিস্কারের করার মতো। নিয়মিত চর্চা না করলে, পরিস্কার না করলে, ফ্লস না করে, নিয়তিম চেকআপ না করলে উটকো দাত ব্যাথার মতো মানসিক সমস্যা গুলো গেড়ে বসে।
ডিপ্রেশন, এ্যাংসাইটি, এডিএইচডি, বাই-পোলার ডিসঅর্ডার এগুলো সিরিয়াস হয়ে যায় এগুলোর জন্য ব্যবস্থা না নিলে।
আমার মনে আমাদের জ্বর সর্দি কাশি ইত্যদির মতো মানসিক সমস্যা গুলো নিয়মিত হয়।
প্রতিদিনের কাজের চাপ থেকে মুক্তি এই মানসিক সমস্যা গুলোর ভালো ইম্পেক্টই ফেলবে আমি ধারনা করি।

৩। একটা পরিবারের কী কী লাগে সাধারন ভাবে বেচে থাকতে চিন্তা করি।
আমার ধারনা আমি খুব পরিমিত পরিমানে জীবন চালাই। অনেকের কাছে এটা কিপটামি। আবার অনেকে বলবে হিপোক্রেসি করছি, কারন আমার লাইফ স্টাইল সেরকম না।
আমার ধারনা আমি খুব নিয়ন্ত্রিত পরিমানে কেনাকাটা করি।
গত এক মাসে আমার খরচ শুধু তিন চার বার বাজার-সদাই।
এ্যামাজনে প্রায়ই এটা সেটা কিনি আমি, সেসব পুরোপুরি বন্ধ। বাইরে খাওয়া বন্ধ। মেয়ের জন্য দুইতিন বার বাইরের খাবার কিনতে হয়েছে, এক মাস পুরোপুরি নিজের রান্না খেয়ে কাটায় দিলাম। সত্যি বলতে খারাপ লাগতেসে না।
চিন্তা করতেসিলাম একটা ফ্যামেলির কী কী জিনিস লাগে যেগুলো ছাড়া চলাই যায় না। এইরকম অবস্থা ছয় মাস এক বছর চললে পার্সোনালি আমার দিব্যি কেটে যাবে। শপিং এর ফেটিশ নাই আমার। এই গেলো কয়েকবছর গুলোতে আমার দৃষ্টিতে অনিয়ন্ত্রিত পরিমান জামাকাপড় কিনেছি আমি।
এর আগে জিনস-জুতা ছিড়ে না গেলে পাল্টাতাম না।

ইন্টারনেট বিল, টিভি বিল (আমার নাই), মর্টগেজের খরচ, গাড়ীর বিল (আমার নাই), গাড়ীর তেলের খরচ, ফোনের বিল, খাবারের খরচ, বাচ্চার পড়াশোনার খরচ, মেডিকেল বিল এগুলো ছাড়া আমরা যা কিনি যা খরচ করি সবই বিলাসিতা।
দুইজনের সংসারের আমার খরচ ২০০০-২৫০০ ডলার বা তারচেও বেশী। সোস্যাল আইসোলেশন খরচ নেমে আসছে তিন ভাগের একভাগে।
নেটফ্লিক্সের খরচ, অডিওবল আর স্পটি ফাই এর খরচও চাইলে কমায় ফেলা যায়।

৪। পার্সোনাল লাইফে বড়ো বড়ো ডিজাস্টার দেখার কারনে, আর প্রচুর বই আর মুভি দেখার কারনে আমি কোন কিছুকেই ফর গ্রান্টেড হিসাবে নেই না। মেয়েকে বলছি এসব কথা, ওরা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রির প্যাম্পার্ড বাচ্চা। কোন ধারনা নাই পরিস্কার পানি, অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, হিটিং-এসি, ইন্টারনেট, রেস্টুরেন্টের খাবার গুলো সব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অনেক বড়ো বিপদের জন্য মেন্টালি প্রস্তুত বলে এই মামুলি আইসোলেশন বা টয়লেট পেপারের জন্য হুড়াহুড়ি আমার কাছে বিনোদন মাত্র।

এই কারনে আমি খুব একটা বিচলিত না। যদিও আমি কন্ট্রাক্টর/কনসালটেন্ট, প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে গেছে, কাজ না করলে পয়সা নাই।
তারপরও ফুরফুরে মেজাজে আছি। খাচ্ছি দাচ্ছি ঘুমাচ্ছি মুভি দেখছি বই পড়ছি, বাড়ীর কাজ করছি, ভাড়াটেদের কাজ করছি।

মনে হয় কোন কিছুকে ফর গ্রান্টেড হিসাবে না নেয়ার মন্ত্রটা ভালো কাজে দিচ্ছে আমার জন্য।

৫। অতীব নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন করার পরো আমি এক হিসাবে বিলাসী জীবন যাপন করি। প্রতিদিন বাইরে খাওয়া, ইচ্ছা মতো ট্যুর দেয়া, যেটা ইচ্ছা কিনে ফেলা এসবই বিলাসিতা।
আমাদের এই বিন্দু বিন্দু বিলাসিতা আসলে পৃথিবীর অন্যান্য লাইফ ফর্মের উপর প্রচুর চাপ নিয়ে এসেছিলো।
কী হয় যদি আমি কোন ভ্যাকেশন ট্রিপে না যাই, বা আমার পছন্দ মতো আরো গ্যাজেট না কিনি, আরো জামা-জুতা ইত্যাদি কিনে ঘর না ভরায় ফেলি।
করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে আমরা এইরকম নিয়ন্ত্রিত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাবো।
যারা আমার মতো নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন করে তারা তো হবেই, যারা চাকরী হারাবে বা চোখের সমানে দেখবে এইসব বিলাসিতা অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন কতো ঠুনকো তারা অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

৬। এসবের দরকার ছিলো, ইগো সর্বস্ব মানবজাতি, নার্সিসিস্টিক ইডিয়টদের জন্য খুব দরকার ছিলো।
করোনা তো খুব মামুলী ভাইরাস, এরচে বড়ো বিপদ আসতেই থাকবে যদি এইরকম অনিয়ন্ত্রিত লাগাম ছাড়া জীবন-যাপন মানুষ বন্ধ না করে আর এই মহামারী থেকে শিক্ষা না নেয়।
#করোনাডাইরীজ

Imtiaz Mirza | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-04-13 09:39:42