বাংলাদেশ নিয়া কোন কিছু লেখা অর্থহীন। তারপরো বাংলাদেশ নিয়া লিখি কারন বেশীরভাগ পাঠ – ইমতিয়াজ মির্জা

বাংলাদেশ নিয়া কোন কিছু লেখা অর্থহীন। তারপরো বাংলাদেশ নিয়া লিখি কারন বেশীরভাগ পাঠক/বন্ধু/ফলোয়ার এরা বাংলাদেশে থাকে।
বাংলাদেশ নিয়ে লিখে ১টা চুল পরিমান কাজ হয়েছে কিনা সন্দেহ। এইরকম হলে লিখে লিখেই সরকার ফেলে দেয়া যেতো।
মানুষকে সচেতন করা, নতুন বন্ধুবানানো নতুন কিছু শেখা এই লাভ।

এরমধ্যে বেশ কয়েকবার বলেছি, নরমাল সময়েই বিশেষজ্ঞ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কাউকে ফলো করা উচিত না। প্যানডেমিকের সময়ে এটা জীবন মরনের প্রশ্ন হতে পারে।

কারন এই প্যানডেমিকের সময়েও যার যার এজেন্ডা আছে।

বাংলাদেশ সরকার করোনা বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে অলরেডি ছড়ায় পড়সে।
এটা কিভাবেই সহযে বোঝা যায়। বাংলাদেশের নাগরিকরা যারা বাংলাদেশে থাকে তারা তো জানেই কী পরিমান অবহেলা আর গাফলতিতে প্রতিটা সেবা দেয়া হয়। যারা রিসেন্টলি বাংলাদেশে গেছে তাদেরও বোঝার কথা বর্ডার দিয়ে হৌক, প্লেন দিয়ে হৌক , যেভাবেই ঢুকুক, করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে পৌছে গেছে।

বাংলাদেশে কোন স্পেশাল দেশ না, পৃথিবীর ১০৮টা দেশ ঠেকাতে পারে নাই বাংলাদেশ পারবে কেন?

সেটা প্রশ্ন না, প্রশ্ন হলো টের পাওয়ার পর কতো দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। গতকাল একটা গ্রাফ শেয়ার করে দেখাইসি, কোন কোন দেশ গুলো করোনো বিস্তার রোধে আপাতত সফল হইসে।

সিংগাপুর, তাইওয়ান আর ছড়িয়ে যাওয়ার পর সাউথ কোরিয়া শক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।
ব্যবস্থা গুলো হচ্ছে,
-> জনসমাবেশ বন্ধ করা।
-> স্কুল কলেজ বন্ধ করা
-> মানুষকে কোয়ারেনটেন করা
-> জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটা মিডিয়া ব্যবহার করা
-> যারা আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা দেয়া আর আইসোলেট করা
-> যারা আক্রান্ত তাদের ট্রাভেল হিস্টোরী জানা আর তাদের কোথায় কোথায় গেছে কাকে কাকে ইফেক্ট করেছে সেগুলো খুজে বের করা
-> এয়ার ফ্লাইট আর বর্ডার বন্ধ করা।

বাংলাদেশ এর একটাও ব্যবস্থা নেয় নাই। বাংলাদেশের বর্তমান ভোটডাকাত সরকারের মেজর একটা অনুষ্ঠান হবে ১৭ মার্চে।
সেটার আগ পর্যন্ত এইপর্যন্ত বিভিন্ন জনের কাছ থেকে খবর পেলাম
যে করোনা ভাইরাসে রোগী আছে সেটা মিডিয়াতে আসবে না।
তারপরো চেপে রাখতে পারে নাই তিনজন রোগী পাওয়া গেছে যারা আবার সুস্থ হয়ে বাড়ীও ফেরত গেছে।

ব্যস সবাই চিন্তামুক্ত। বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস মুক্ত।

নাআআ…

ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশে হাসপাতাল আর অন্যান্য চিকিৎসা ক্ষেত্রেই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর উর্বর ভূমি হিসাবে দেখা যাবে।
অলরেডি খবর এসে গেছে আরো ২ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত।
এরমধ্যে খবর এসেছে ২৪ ঘন্টা শ্বাসকষ্টের কারনে ৭০০ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এবার আসুন সরকার আপনাকে কী বলছে সেটা দেখি। সরকারী মাধ্যমে আমরা খবর পাচ্ছি পিরজাদী বলছে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস মুক্ত।
আমরা দেখছি মন্ত্রীরা বলছে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসে জন্য শক্ত কোয়ারেন্টেন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে যদিও কেউ জানে না সেই ব্যবস্থা গুলো কী। এরমধ্যে ইতালী থেকে ইরান থেকে চায়না থেকে কোরিয়া থেকে বিভিন্ন ফ্লাইটে নানান মানুষ এসে ভরে গেছে।

করোনা ভাইরাসে মৃত্যু মাত্র ২% মানুষের। ধরলাম অর্ধেক মানুষ যদি বাংলাদেশ আক্রান্ত হয় (জার্মানী ঘোষনা দিয়ে ৭০% আক্রান্ত হবে)। তাহলে ১৬ লাখ মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভবনা আছে।
এটা স্রেফ নাম্বার, আমার ধারনা সবাই করোনা আক্রান্ত হবে। কিছু মানুষ মারা যাবে। তারপরো যতোটুকু সেফ থাকা যায়। আমি ঝুকি নিয়ে পারছি কারন আমি জানি আমি মোটামুটি সুস্থ। যারা অসুস্থ তারা কিন্তু বিরাট ঝুকিতে আছে। আমি নীতি নির্ধারক কেউ না, আমি ফেসবুকে লিখি, আমার কাছে এসব অপিনিয়ন, কিন্তু যারা দায়িত্বশীল তাদের দায় আছে এই কিছু সংখ্যক মানুষ (যেটা কয়েক হাজার হতে পারে আমি ধারনা করছি) মানুষের মৃত্যুর পিছনে।

যা হোক প্যানিকড হবার কিছু নাই। প্রিকশন নেয়াই আসল ব্যাপার। প্যানিক ছড়াচ্ছি না, স্রেফ বাস্তবতা নিয়ে আলাপ করছি।

মহামারী সময় সরকার আর জনগণ কাছাকাছি আসে। সরকার যেটা সত্যি সেটাই জানায় প্যানিক না ছড়ায়ে।
বাস্তব সত্য কথা হচ্ছে বাংলাদেশে মানুষ ১টা সুতা দিয়ে ভোটডাকাত সরকারকে বিশ্বাস করে নাই। এইকারনে নানান রকম গুজব ডালপালা মেলছে।
যখন লাশ পড়া শুরু হবে তখন ম্যাস হিস্টেরিয়া তৈরি হবে বাংলাদেশে।

যেজন্য বলি রাজনীতি কেন এতো জরুরী। এই যে একটা অনুষ্ঠানের জন্য যে ১৬ লাখ মানুষ জীবন, আপনার বাবা-মার জীবন জিম্মি করা হলো, রাজনীতি যদি আপনার দখলে থাকতো, একটা গণতান্ত্রিক সুষ্ঠু ভোটে নির্বাচিত সরকার যদি আসতো তবে কী এইরকম তথ্য গোপন করার দরকার পড়তো। কারন এই যে অনুষ্ঠান এই ইমেজ বেচে এই আবেগ বেচেই সরকার চলছে।

বাংলাদেশের মানুষ জীবনের দাম নাই সেটা সবাই জানে। এতোদিন তো রাজনৈতিক কর্মী বা যারা প্রতিবাদ করে যারা লিখে তাদের ব্যাপারে এসব ভেবে এসেছেন। এখন কিন্তু আপনার ঘরে এসে উঠেছে এই রাজনীতি কারনে তৈরি করা এই বিপদ।

এখন বুঝছেন কেন রাজনীতি এতো জরুরী? নাকি বৃষ্টি এলে সব ভাইরাস ধুয়ে যাবে, বাংলাদেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী, গরমে ভাইরাস মরে যাবে এই সব সুড্যোসায়েন্সের উপর ভর করে বসে আছেন?

#করোনাডাইরিজ

Imtiaz Mirza | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-14 23:43:20