মার্চ ব্রেকে মেয়ের স্কুল বন্ধ। করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে আগামী সপ্তাহে অফিসেও যে – ইমতিয়াজ মির্জা

মার্চ ব্রেকে মেয়ের স্কুল বন্ধ। করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে আগামী সপ্তাহে অফিসেও যেতে হবে না, বাসা থেকে কাজ।
টাইমিংটা খুব ভালো মিলেছে।
যদিও অবস্থা খুব সুবিধার না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বউ আক্রান্ত।
টম হ্যাংকস আর তার বউ আক্রান্ত। এই নিয়ে গত দুইদিনে তোলপাড় চলছে কানাডা জুড়ে।

২০০০-৩০০০ আক্রান্ত হয়ে যা কাজ না হতো, এই একজন আক্রান্ত হওয়াতেই ন্যাশনাল ইমার্জেন্সী চালু হয়ে গেছে। অবশ্য এইখানে মানুষের প্রাণ দামকে অমূল্য ধরা হয়ে তাই ৪-৫জন মারা গেলেই বর্ডার বন্ধ করে দিতে পারে।

সেলেব্রেটি/শাসক/ধনীদের প্রাণের দামই আলাদা এটা নতুন কোন খবর না।

অবশ্য একটা আফসোস লাগতেসে, জাস্টিন ট্রুডো পৃথিবীভর্তি ট্রাম্প, বরিস জনসন, সালমান, পুতিন, নেতানিয়ানহু,মোদির ভিড়ে একজন ভালো প্রধানমন্ত্রী। তারই কেন হতে গেলো? কেন ট্রাম্পের হতে পারলো না?
কেন টম হ্যাংকসের হতে গেলো?
ভালো মানুষ গুলাই পৃথিবীতে মরে সবার আগে।
পশ্চিমে এটা আমার দ্বিতীয় প্যানডেমিক দেখা। এর আগে সোয়াইন ফ্লু দেখেছি। পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে গিয়ে বার্ড ফ্লু দেখেছি।
সেই হিসাবে কিছু জিনিস মিলানোর চেষ্টা করছি।

এবারের ভয়টা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশী। আজকে ২০০০ মানুষ অফিস বিল্ডিং ফাকাই ছিলো। রাস্তা ঘাটেও গাড়ী কম দেখেছি।
মানুষ পাগলের মতো কেনাকাটা করছে। সবার আগে টয়লেট পেপার শেষ হয়েছে। এই জিনিসটা আমি বুঝি না। টয়লেট পেপার শেষ হলে পানি তো আছে। টয়লেট পেপারের অভাবে তো কেউ মারা যাবে না। তারপরো ওরা ঢুশাঢুশি করবেই।

আমার একমাত্র ভয় হচ্ছে, এইযে ১৪-২১ দিন ঘরে থাকবো এর জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে খাবার কিনতে গিয়ে পাবো কিনা। আমি আবার এইসব ব্যাপারে অনেক গদাইলস্করি।

ভাইরাসে ব্যাপারে নানান ধরনের খবর শুনছি। অন্যসব খরবের মতোই মানুষ নেগেটিভ পজেটিভ দুইভাবে ওভার রিএ্যাক্ট করছে। এই দুই টাইপের রিএ্যাকশনই এতো ফালতু আর অযৌক্তিক আর নিরেট যে ব্যাপারটা শেষপর্যন্ত আর হাস্যকর থাকে না। যারা প্যানিকড হয়ে প্যান্ট ভিজায় ফেলছে তারাও গবেট, যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে মানুষের সাথে হাত মিলায়ে সেই হাত আবার চাটছে তারাও গবেট, যারা বলছে কিছুই হবে না এসব করোনা প্রতিদিনই হয় আমাদের তারা সরকারী গবেট।

আমার ধারনা করোনা ভাইরাস সবার মধ্যে ছড়াবে। এটা কোয়ারেন্টেইন করা যাবে না, তবে ধাক্কাটা কমাতে পারবে। আমাদের অফিসের সবার সোয়াইন ফ্লু হয়েছিলো। হয়ে যাওয়ার পর আমরা বুঝেছি এটা সোয়াইন ফ্লু ছিলো। গলার মধ্যে মনে হয় অপারেশন করেছিলো এইরকম ছাপ রেখে গিয়েছিলো।
আর এরপর আমরা সোয়াইন ফ্লু প্রুফ হয়ে গেছি।

তেমনি করোনাতে সবাই আক্রান্ত হবে। অবশ্য এটা আমার জাস্ট প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলা। আমি প্যানডেমিকের ব্যাপারে বিশেষেজ্ঞ না। বিশেষজ্ঞ ছাড়া কারো মতামত এই ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য না। আমারটাও না। আমি শুধু অনুমান করছি আর হিসাব মিলাচ্ছি।

সোয়াইন ফ্লুতে ১৮০০০ মানুষ মারা গেছিলো। মাত্র ১০ বছর আগের ঘটনা সবাই ভুলে গেছে। এইরকম মহামারী ভাবটা তখন কিন্তু ছিলো না। কিছু প্রিকশন নিয়েছিলাম আমরা ঐ পর্যন্তই।

___

করোনা ভাইরাসের চেয়ে ভয়ংকর হবে ইকোনমি ধ্বসে যাওয়া।
ঐটাই আসল আতংকের ব্যাপার।

যদিও এখনো মার্কেট ক্রাশের পরিস্কার আলামত পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষজন টাকা নিয়ে বসে আছে কবে আবার মার্কেটে ঝাপাবে টাকা নিয়ে।
এই টাইপের উৎসাহটাও বিরল ছিলো।
___

ঐদিন মেয়ের সাইকিয়াট্রিস্টের অফিসে এক মহিলা চরম আলাপ জুরে দিলো করোনা ভাইরাস নিয়ে কী হবে না সেটা নিয়ে।
আমার চেহারা দেখে কেউই আলাপ করার উৎসাহ পায় না। মহিলা আসলে এতোই নার্ভাস হয়েছে আমার চেহারাকে পাত্তা না দিয়ে আলাপ জুরে দিয়েছিলো।

অফিসের কলিগরাও মোটামুটি আতংকিত।

ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রির নাগরিকদের আতংক দেখে আমার মজা লাগে। এখানে ট্যাপের পানি থেকে শুরু করে টয়লেট পেপার সব কিছুকেই ফর গ্রান্টেড হিসাবে নেয়। টাকা জমানোর বদলে টাকা উড়ানোকেই স্বাভাবিক হিসাবে ধরা হয়। হাজার বছর বাচবে এইভাবে তারা লাইফের ক্যালকুলেশন করে। ভাব ধরে তাদের মতো লিবারেল প্রগ্রেসিভ আর হয় না, সুযোগ পেলেই হার্ট করার চেষ্টা করে প্যাসিভ এগ্রেসিভ ব্যবহার দিয়ে, ছদ্ম রেসিজমকে আড়াল জন্য লিবারেল ভাব ধরে থাকে।

বাংলাদেশে ঝড় হলেই আমি বের হয়ে যেতাম সাইকেল নিয়ে। না হয় নদীর পাড়ে চলে যেতাম।

ক্যাওসের মুহুর্তেই হিউম্যানিটির আসল চেহারা দেখা যায়।
ঐটা দেখতে আমার ভালো লাগে।
এখন এই টয়লেট পেপার নিয়ে মারামারি দেখতে ভালো লাগছে।

___
চিন্তা করছেন আমার করোনা হলে কেমন হবে?
আমার ধারনা আমার করোনা হবে আর করোনা হলে আমি লাইভ ব্লগিং করবো।

তাই পাশেই থাকুন আগামি দু সপ্তাহ জন্য। হিউম্যানিটির সার্কাস দেখার জন্য সাদর আমন্ত্রন রইলো।

#করোনাডাইরীজ

Imtiaz Mirza | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-14 09:11:58