বার্নী স্যান্ডার্সকে পৃথিবীর সব মানুষের সাপোর্ট করা উচিত। এটা কোন আবেগ বা আইডিওল – ইমতিয়াজ মির্জা

বার্নী স্যান্ডার্সকে পৃথিবীর সব মানুষের সাপোর্ট করা উচিত। এটা কোন আবেগ বা আইডিওলগের মতো কথা বা লেফটি ধরনের কথা না। চরম বাস্তব ভিত্তিক কথা।

ক্লাইমেট চেঞ্জ একটা রিয়েল ইস্যু, এ আই রেভুলশন – জব লস এসব রিয়েল ইস্যু, ইনকাম ইনইকুয়ালিটি একটা রিয়েল ইস্যু, সারা পৃথিবীতে লিবারেল ডেমোক্রেসির ব্যাকফুটে যাওয়া এসব রিয়েল ইস্যু, ডানপন্থী রেসিস্টদের উত্থান রিয়েল ইস্যু।
আমাদের সময়ে এসবগুলো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।

আমেরিকার ইলেকশন নিয়ে আমাদের এতো মাথা ব্যাথা কেন?
বাংলাদেশের ইলেকশনের খবর নাই, আমি কানাডা থাকি সেই দেশে খবর নাই, আমেরিকার ইলেকশন নিয়ে প্রতিদিন চেচামেচি করি কেন?

কারন আমেরিকা পশ্চিমা পৃথিবীর লিডার। আমেরিকা যা করে অন্য অনেক দেশ ব্লাইন্ডলি তা ফলো করে। ট্রাম্পের মতো শেইমলেস ক্লাউনগিরি এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে। ব্রাজিলই তার উদাহরন। ব্রাজিলের রেইন ফরেষ্ট যা পৃথিবীর একটা ফুসফুস পুড়ে যাচ্ছে আর সে বলতেসে ব্রাজিলের উন্নয়নের জন্য বন পুড়ানোর দরকার আছে।
আমাদের কানাডার ইকোনমি সরাসরি আমেরিকাতে এক্সপোর্ট এর উপর নির্ভরশীল।

আমেরিকাতে একজন হৃদয়বান, ভদ্রলোক, বিজ্ঞ, নীতিবান, পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ, সংবেদনশীল, আক্ষরিক অর্থে গরীবের বন্ধু মানুষ আশা অনেক দরকারী।

এতো গেলো, যেটা হওয়া উচিত সেই আলাপে। বার্নী বাদে অন্য কারো ট্রাম্পকে হারানোর ক্ষমতা নাই। পোল আফটার পোলে এটা দেখা যাচ্ছে। বার্নী বাদে অন্য কারো গ্রাস রুট মুভমেন্ট নাই।
এই মুভমেন্ট বার্নীর মতো আরো অনেক রাজনীতিবিদ জন্ম দিবে।
আমেরিকার রাজনীতিতে সাধারনত যে সবচে বেশী পয়সা তুলতে পারে সেই জিতে। বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ আর বিলিওনাররা তাই প্রার্থী কিনে ফেলে।

বার্নীর সবচে বড়ো শক্তি যে তাকে টাকার জন্য কারো কাছে হাত পাততে হচ্ছে না। সাধারন মানুষ গড়ে ১৮ ডলার করে তাকে দেড় মিলিয়ন মানুষ ছয় মিলিয়ন বার কন্ট্রিবিউট করেছে। এইরকম রেকর্ড ব্রেকিং ইন্ডিভিজুয়াল ডোনার এমনকি ওবামাও দেখাতে পারে নাই।

ট্রাম্পকে হারাবে বার্নী কারন ট্রাম্প একটা ফেইক ক্লাউন, মিথ্যুক, জোচ্চর আর মানুষের ঘৃণাকে পুজি করে সে ক্ষমতায় এসেছে।
ট্রাম্প ওবামা তৈরি করে যাওয়া ইকোনমিকে আরো ফুলিয়ে ফাপিয়ে তুলেছে। ট্রাম্পকে হারানো তাই ২০১৬ এর চে অনেক কঠিন হবে।
একমাত্র অনেক বেশী সংখ্যক মানুষ যদি ভোট দিতে যায় তবেই ট্রাম্পকে হারানো সম্ভব।
আমেরিকার রাজনীতি একটু অদ্ভুত জটিল। রিপাবলিকান পার্টি চায় যতো কম মানুষ ভোট দিতে যাক, তাই তারা গরীব আর কালোদের জন্য ভোট দেয়া কঠিন করে তোলে । আর ভোট দিয়ে গরীব মানুষ পেট চলে না তাই অনেকে ভোট দিতেও উৎসাহী হয় না।
একমাত্র বার্নীর পক্ষেই ম্যাস লেভেলের মানুষকে ভোট দিতে আনানো সম্ভব।

অন্য কোন প্রার্থী হলে ট্রাম্প স্রেফ তাদের চিবিয়ে খেয়ে ফেলেবে।
ট্রাম্প নিজেও বলেছে সে একমাত্র বার্নীকে ভয় পায়।

সবচে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টির ক্ষমতাবানরা ট্রাম্পের হাতে পরাজয়ের চেয়ে বার্নীর কাছে পরাজয়ে বেশী ভয় পায়।
কারন তাদের কর্পোক্রেসী আর ধনীদের তোষনের রাজনীতির চরম শত্রু হচ্ছে বার্নী। তাদের নিও লিবারেল রাজনীতি সব ফান্ডা ফাস হয়ে যাবে বার্নী যদি প্রেসিডেন্ট হয় ।

তাই তারা যেকোন ভাবে বার্নীকে ঠেকাতে চাচ্ছে।
কিভাবে তারা চেষ্টা করে নাই, মিডিয়াতে (২০১৬তে) বার্নীকে সুযোগ না দিয়ে,
ইলেকশনে জোচ্চুরী করে, সেক্সিস্ট ডেকে, বার্নীর বয়স বেশী এই অভিযোগ করে, বার্নীর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রচারনায় নেমে,
মাইকেল ব্লুমবার্গকে নির্বাচনে নামিয়ে।

এখন দেখা যাচ্ছে কোন ভাবে জোচ্চুরি করে, ব্ল্যাক আউট করে, মিথ্যা খবর ছেপে কাজ হচ্ছে না তাই লজিক আর ডেটা গাইরা নতুন আলাপ শুরু করেছে। বার্নীকে নাকি ট্রাম্প প্রপ আপ করছে রিপাবলিকান পার্টি সাপোর্ট করছে বার্নীকে।

মজার ব্যাপার হলো হিলারীর মেইল থেকে জানা যায় ট্রাম্পকে উইক অপোনেন্ট হিসাবে প্রপআপ করেছিলো হিলারী।
সিএনএন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের প্রচারনা ফ্রি করেছে দিয়েছে ট্রাম্পকে।
সেই ট্রাম্পই হিলারীকে পরাজিত করেছিলো।

আবার তারা অদ্ভুত লজিক বের করেছে বার্নী নাকি তার ভোটারদের ভোট দিতে মানা করেছে। যেখানে স্বয়ং ডিএনসি চেয়ারম্যান বলেছিলো ইলেকশন রিগিং হয়েছিলো বার্নীর বিরুদ্ধে।
এইবার তো আইওয়াতে এ্যাপ ম্যাল ফাংশন করে বার্নীর ভোট কেড়ে নেয়া হয়েছে।
এইসবে পর কেউ যদি ভোট না দিতে যায় সেটা বার্নীর দোষ?
বার্নী হিলারীর জন্য ৩৭টা জনসভা করেছে সেটাও এইসব গর্দভরা ভুলে যায়।

ফেয়ার ইলেকশনে বার্নী জিততে না পারলে ভিন্ন কথা, তাকে জোর করে হারানো হবে কেন?

বার্নী এখন ফ্রন্ট রানার, আজকে সে নিউ হ্যাম্পশায়রে জিতেছে, আইওয়াতে তার বিজয় কেড়ে নেয়ে হয়েছে, যদিও সে সবচে বেশী ভোট পেয়েছে।
সামনে সব গুলো স্টেটে তার জেতার খুব ভালো চান্স আছে।

লজিক আর ডেটা গাই এখন বলছে যদি বার্নীকে জোর করে হারানো হলেও এইযে কোটি কোটি মানুষ তাকে টাকা দিচ্ছে তাকে সাপোর্ট করছে তারা সব ভুলে সব মাফ করে দিয়ে আবারো সেন্ট্রিস্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে যাবে!!

ফাক অফ!!

Imtiaz Mirza | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-02-12 12:32:55