দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এরিক মারিয়া রেমার্কের 'All Quiet on t – জাহিদ রাজন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এরিক মারিয়া রেমার্কের 'All Quiet on the Western Front' পড়েছিলাম ক্লাস এলেভেনে। সেবা প্রকাশনীর অনুবাদ- যতদূর মনে পড়ে বেশ সুন্দর অনুবাদ। খুব দাগ কেটেছিল মনে।

রেমার্ক লিখেছিলেন- This book is to be neither an accusation nor a confession, and least of all an adventure, for death is not an adventure to those who stand face to face with it. It will try simply to tell of a generation of men who, even though they may have escaped (its) shells, were destroyed by the war.” । রেমার্ক দেখিয়েছিলেন যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং নিষ্ঠুরতায় মানুষের স্বভাব কিরকম পাল্টে যায়। প্রচণ্ড সেন্সটিভ এবং ভালো একটা মানুষও ভয়াবহতা দেখে নিজের জীবন নিয়ে ভাবে। দীর্ঘ দিন একসাথে যুদ্ধ করছে, এরকম একজন বন্ধু মারা যাওয়ার পর আরেকজন নির্বিকারে দেখছে তার জুতা জামার মধ্যে কি কি ভালো আছে- জুতাটা পায়ে লাগবে কিনা, জামাটা গায়ে লাগবে কিনা।

প্রিমো লেভির – Survival in Auschwitz, অথবা ভিক্টর ফ্রাঙ্কেলের Man's search for meaning দুইটা বইতেই নাৎসি বাহিনীর হাতে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে ইহুদিদের নির্যাতনের কাহিনী- এক কথায় অনবদ্য দুইটা লেখা। কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে একজন আরেকজনের দিকে তাকায়- অমুক হয়ত মরে যাবে- আলোচনা করে। তার জুতাটার দিকে তাকায়।

মানুষ এরকম- ক্রাইসিস এবং মৃত্যুর বিভীষিকায় মানুষ কি আরেকটু ভালো আচরণ করতে পারে না ? ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেল মনে করেন পারে- তবে খুব কম মানুষ। ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেল দেখেছেন অনেক মানুষ নিজের স্বজাতি, প্রিয় বন্ধুকে যদি একটু বেশী সুপ দেয়, হাড়ির তলা থেকে নাড়া দিয়ে দুইটা মটরশুটি বেশী দেয় তাদেরকে দোষ দেয়া যায় ?

Jahid Razan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-04-03 04:37:10