কার্টুনিষ্ট কিশোর: বাংলাদেশের বাদিওচাও হয়ে উঠতে পারবেন কি? – আমান আবদুহু

কার্টুনিষ্ট কিশোর: বাংলাদেশের বাদিওচাও হয়ে উঠতে পারবেন কি?

একটা ছবি অনেক সময় হাজারো শব্দের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। পলিটিকাল কার্টুনিস্টরা যদি মেধাবী হন, একটা কার্টুন দিয়েই লক্ষ মানুষের মনের কথা বলে ফেলতে পারে। এই কারণে পলিটিকাল কার্টুনিস্টরা সবসময়েই অটোক্র্যাটদের চরম চক্ষুশূল।

বাদিওচাও হলেন একজন চাইনিজ পলিটিকাল কার্টুনিস্ট, বিদেশে নির্বাসনে পালিয়ে আছেন। সম্ভব হলে চায়না তাকে বিদেশ থেকেই অপহরণ করে নিয়ে যাবে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, রাশিয়ার পুতিন কিংবা মিশরের সিসি, এই লোকজন পলিটিকাল ক্যারিকেচার বা কার্টুন করা পছন্দ করে না। নিজেদের জন্য চরম অপমানজনক মনে করে। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে চীন, তাইওয়ান, হংকং এসব জায়গার বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে বাদিওচাও Badiucao এর আঁকা কার্টুনগুলো দেখলেই বুঝবেন কেন পলিটিকাল কার্টুন এমন আলোচনার বিষয়।

বাংলাদেশে একসময় কার্টুনিস্টদের চরম স্বাধীনতা ছিলো। তারা যা ইচ্ছা আঁকতে পারতো। এখন তা আর নাই। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি অন্য সব কিছুর পাশাপাশি এটাও খেয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের কার্টুনিস্টরা বেশিরভাগই তথাকথিত প্রগতি, তারাও কি আর করবে, গোলামী স্বীকার করে নিয়েছে। এরপরেও কিছু কিছু কার্টুনিস্টের বিবেক কখনো কখনো হয়তো আর চাপা থাকতে চায়না, একটু তেড়েফুড়ে উঠে। এইখানে এক পাল্লায় ভীতি এবং আরেক পাল্লায় ঝুঁকির টানাটানি চলে।

ফেইসবুকে কদাচিত যেসব কার্টুন চোখে পড়তো, কিশোরের আঁকা কার্টুন তার মাঝে ছিলো। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে কার্টুন আঁকার অপরাধের বাংলাদেশের কুখ্যাত ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা নতুন কিছু না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এটা বহু বছর থেকেই চলতেছে। বিরোধী পক্ষ তো বলতে গেলে নির্মূল হয়ে গেছে। এখন রাক্ষস বাংলাদেশ তার পক্ষের লোকদেরকেও খাওয়া শুরু করেছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির অধীনে একাত্তরের পবিত্র চেতনায় বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য অটোক্রেটিক রাষ্ট্রগুলোর গতানুগতিক চরিত্র ধারণ করতেছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে, এইটা এই ফকিরা দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা বাকী রয়ে গেলো। উত্তরটা হলো, না পারবেন না। কুত্তায় কুত্তায় কামড়াকামড়ির শিকার হলেই বাদিওচাও হয়ে উঠা যায়না।

Aman Abduhu | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-05-06 18:35:09