আমি মাছের বাজারে ঢুকতে পারিনা, গন্ধ সহ্য করা সম্ভব হয়না। দুই একবার ট্রাই দিছি, – আমান আবদুহু

আমি মাছের বাজারে ঢুকতে পারিনা, গন্ধ সহ্য করা সম্ভব হয়না। দুই একবার ট্রাই দিছি, সুগন্ধি টুগন্ধি সহ প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু বিশ থেকে ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড়ায়া বের হয়ে আসতে হইছে। মনে হয় পেটের নাড়িভুড়ি সহ উল্টায়া বের হয়ে আসবে বমির সাথে। সুতরাং বাজারে গেলে আমি দূর থেকে মাছের দোকানের দিকে তাকায় থাকি, অন্যরা কেনাকাটা করে নিয়ে আসবে সেই অপেক্ষায় মদনের মতো দাঁড়ায়া থাকি। এইদেশে মাছের দোকানে আবার অনেক সৌন্দর্য্য যুবতী তরুণীরাও কাজ করে। কেন করবে না? ভালো বেতন পাচ্ছে। সারাদিন কাজ শেষে গোসল করে হয়তো পাজেরো বা ল্যান্ড ক্রুজার চালিয়ে বাড়ি ফিরতেছে। আমি দেখি আর চিন্তা করি, এই কাজ ওরা কেমনে করে! তখন পুরনো একটা ঘটনা মনে পড়ে। একবার একটা কাজে এক ট্যানারিতে যেতে হয়েছিলো। কয়েকশ গজ দূর থেকেই দুর্গন্ধের শুরু। ট্যানারিতে যখন ঢুকলাম তখন দেখি আর দম নিতে পারিনা। এতো বিকট গন্ধ খুব কমই আছে। তবে মাছের বাজারের মতো আক্রমণাত্বক না। মাছের বাজারের গন্ধ হলো আপনার মাথাকে খাবলাবে, নার্ভকে খোঁচাবে। আর ট্যানারির গন্ধ তারচেয়ে খারাপ, কিন্তু ভারী ধরণের। সে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো আপনার ঘাড়ে চেপে বসবে। ওখানে যার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এটা সহ্য করেন কিভাবে? তিনি বলেছিলেন, দুইদিন আসেন তিনদিনের দিন কোন গন্ধই টের পাবেন না। ঐটা আপনার নাকে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মানুষ এই এক অদ্ভুত ইলাস্টিক প্রাণী। অভিযোজন ক্ষমতা অসীম। তার মাঝে সে যদি আওয়ামী হয়, তাহলে তা অসীম টু দি ইনফিনিটি। ইলেকশন কমিশনার রাকিবের উদ্ভট কথা শুনে আপনি ইরিটেটেড হন, অথবা সবার সাথে তাল মিলিয়ে ব্যঙ্গ করেন, কিন্তু সে কেন এই কথা বলতেছে তাও চিন্তা করা দরকার। হাছান মাহমুদ, কামাল বা ওকা, এরা কেন উদ্ভট ও প্রকটভাবে গান্ডুমার্কা কথা বলে, ঐটা কি কখনো ভাবছেন? এদেরকে কি বেকুব মনে হয়? ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং গান্ডুদেরকে চরে খাওয়ার মতো হাই আইকিউ থাকার পর এরা এইসব জায়গায় গেছে। তথাপি এরা গুহ্যদ্বার দিয়ে কথা বলার কারণ হলো, এই কথাটা যে একটা মাদারতোত মার্কা কথা ঐ সেন্সটা তাদের নাই। ট্যানারি বা মাছের বাজারের গন্ধের মতো। এইসব কথা এদের মাথার ভেতরে সেট হয়ে গেছে। এইসব কথায় এরা সিরিয়াসলি বিশ্বাস করে। এবং এসইব কথায় এরা তখনই বিশ্বাস আনতে পারে এবং বলতে পারে যখন তারা এই দেশের মানুষকে মুরগি-ছাগলেরও অধম মনে করে। আক্ষরিক অর্থে তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ এরকমই। আপনি যদি এদেশের একজন আমজনতা হন, আপনার মূল্য তাদের কাছে যতটা, তারচেয়েও আজ সকালে তাদের করা প্রস্রাবের একটা ফোঁটার মূল্যও তাদের কাছে অনেক বেশি। এই কথাটা বুঝলে দেখবেন আর মজা লাগতেছে না। গন্ধ লাগতেছে বিকট ও অসহ্য। তবে কথা হলো তাদের মতো পরিবেশ ও পরিপার্শ্বিকতায় চব্বিশ ঘন্টা থাকলে আপনার কাছেও হয়তো তাই মনে হতো।

উৎস । তারিখ: 2020-11-13 05:27:14

13 thoughts on “আমি মাছের বাজারে ঢুকতে পারিনা, গন্ধ সহ্য করা সম্ভব হয়না। দুই একবার ট্রাই দিছি, – আমান আবদুহু”

  1. মাছ বাজারের মাছের গন্ধ আমার খুব প্রিয়। সম্ভবত খুব ছোট থেকেই ঘরের বাজারের দায়িত্ব পাবার কারনে হয়ত অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

  2. গত কিছুদিন যাবত আমি এই জিনিসগুলা নিয়া চিন্তা করতেছিলাম, এরা কেন এইধরনের প্রলাপ বকে। আজ অনেকটা ক্লিয়ার হইছে। 😆😆😆😆

  3. মাছবাজারে কাজ করা লোকজন আপনার পাশ দিয়ে হেটে গেলে কিংবা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে উঠলে আপনি সেটা পরিষ্কার বুঝতে পারবেন।ব্যাপারটা আম্লীগের বেলায়ও সত্য।
    দুই তিনিটা বেসিক কথা শুনলেই বুঝে নিবেন সে আম্লীগ করে।এই যেমন “দেশের অবস্থাতো খুবই ভালো,ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে”, “দুর্নীতি বিএনপির আমলেও বহুত ছিল” কিংবা “ইলেকশানে কারচুপি শুধু বাংলাদেশ না, বিশ্বের সব দেশেই হয় কমবেশি”।এই কথাগুলো থেকেই বুঝে নিবেন সে পিওর আম্লীগ।

  4. হাসান কামাল হুদা হাইকোর্ট আর ওকা গংদের কেটওয়াকের ছবিগুলো ও একই ফ্ কোরিওগ্রাফমারানির ই মাইন্ড গেম

Comments are closed.