বাংলাদেশের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত পুরো সময়কালকে মোটাদাগে বিশেষায়িত করতে বলা হলে তি – আমান আবদুহু

বাংলাদেশের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত পুরো সময়কালকে মোটাদাগে বিশেষায়িত করতে বলা হলে তিনটা পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়।
একাত্তরের ষোল ডিসেম্বর থেকে পচাত্তরের পনেরো আগষ্টঃ বর্বরকাল।
পচাত্তরের পনেরো আগষ্ট থেকে দুইহাজার ছয়ের আঠাশে অক্টোবরঃ মোটামুটি মানুষকাল।
দুইহাজার ছয়ের আঠাশে অক্টোবর থেকে চলমানঃ আদি বর্বরকালে প্রত্যাবর্তন।

বাঙালির বর্বরতার মূলে ফিরে যাওয়ার যাত্রার যে সূচনা, আজ সেই আঠাশে অক্টোবর। যেই দেশের মানুষ আঠাশে অক্টোবরের মতো কাজ করতে পারে, তদুপরি লগি বৈঠার আদেশদাতা খুনীকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে পারে, সেই দেশের মানুষর উচিত মানবসন্তান জন্মদান থেকে বিরত থাকা।

আঠাশে অক্টোবর বর্বর বাঙালির রক্তমাংশে মানসে-মননে মিশে আছে। কাপুরুষ বাঙালি যেহেতু দলবদ্ধভাবে হিংস্র হয়ে উঠে, তাই সে বহু বছর আগে থেকেই এ কাজ করে অভ্যস্ত। ইতিহাসে নমুনা আছে। বাঙালির এই চেতনার অগ্রপথিক তোফায়েল-মেননরা তাই মন্ত্রী হয়। ভবিষ্যতে যেমন বাপ্পাদিত্য পশুরা নিশ্চিতভাবে বাঙালির মন্ত্রী হবে।

নানা কারণে বাঙালি খুবই গুরুত্বহীন একটা জনগোষ্ঠী। তবে যদি কোনদিন কোনভাবে এখানেই কোন বিপুল জ্ঞানী মানুষের জন্ম হয়ে যায় তাহলে সম্ভবত তিনি তার ভবিষ্যত সেই জ্ঞানকর্মে দুইহাজার ছয়ের আঠাশে অক্টোবরের নিক্তিতে বাঙালি জাতিকে পরিমাপ করবেন।

যাদের সন্তান হয়েই গেছে, দয়া করে আপনারা আপনাদের সন্তানদেরকে আঠাশে অক্টোবরের ভিডিও দেখিয়ে বাংলাদেশ চেনাবেন। এতে করে সত্যিকার পিতামাতার দায়িত্ব পালন করা হবে কিছুটা। বিদেশীদেরকে দেখাবেন। মানুষকে মানুষ কিভাবে হত্যা করতে পারে এবং উদযাপন করতে পারে, এ ভিডিওগুলো তার বাস্তবচিত্র।

বর্বররা এভাবে দল বেঁধে হত্যা উদযাপন করে। এটাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত চেতনা। জাফর ইকবালের সাদাসিধে আলাভোলা কথার পেছনে লুকানো আসল চেহারা। আঠাশে অক্টোবরে বাঙালীর এই চেহারা বেদম প্রকাশ হয়ে যায়। সুতরাং আঠাশো অক্টোবরের বাস্তব চিত্রগুলো হলো বাংলাদেশের সত্যিকার ব্রান্ডিং।

আঠাশে অক্টোবর যদি কোনদিন ভূলে যাওয়ার উপক্রম হয়, তার অর্থ দাঁড়াবে আপনি কাপুরুষ বাঙালির দলবদ্ধ শাহবাগি বর্বরতা রোগে সংক্রামিত হয়ে পড়ছেন।

গত বছর এদিনে লেখা।

উৎস । তারিখ: 2020-10-28 15:38:27

5 thoughts on “বাংলাদেশের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত পুরো সময়কালকে মোটাদাগে বিশেষায়িত করতে বলা হলে তি – আমান আবদুহু”

  1. আমি তখন ৮ বছর বয়সী ছিলাম।বিটিভিতে লাইভ চলছিল আর আমি দাড়িয়ে দেখেছিলাম আম্মার কোমর জড়িয়ে ধরে!
    এখনো যেন চোখের সামনে ঘটছে লগি,বৈঠার,বাশের বাড়ি,মাথা থেকে চুলসহ চামড়া খসে পড়ছে আর জসিম ড্রেনের মুখে পড়ে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করছে।কেউ এসে টেনে নিয়ে যেতে চাইল কিন্তু লাঠি,লগি,বৈঠা গুলো অনবরত চলছিল।
    কেউ কিরিচ দিয়ে কোপাচ্ছিল,কেউ গুলি করছিল কেউ রাস্তায় মার খেয়ে পড়া মানুষটার গায়ে উঠে লাফাচ্ছিল।
    বাড়ির চাচী,জেঠী, দাদী সব মহিলারা ওই এক্টা রঙ্গিন টিভির সামনে বসে,দাঁড়িয়ে দেখছিল আর কাদছিল কিন্ত আমি কাঁদি নাই!
    এরপর থেকেই আমি আর মৃত্যু দেখে ভয় পাই না।
    ওই চোট্টবেলার ঘটনা আমার সারাজীবনের শিক্ষা।

  2. BJP’র আইটি সেল মত আওয়ামীদের CRI পরিচালিত এক পেজে এক আওয়ামী কমেন্ট করছে।

Comments are closed.