ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করার বিরুদ্ধে সুশীল মতামতটা বাংলাদেশে আসলে একটা গান্ডু মতাম – আমান আবদুহু

ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করার বিরুদ্ধে সুশীল মতামতটা বাংলাদেশে আসলে একটা গান্ডু মতামত। ওটা মানুষের সমাজের মতামত, পশুদের সমাজের জন্য না। কোন সভ্য সমাজে এ ভিডিও আপলোড করা ঠিক না। কারণ সভ্য সমাজে আইনকানুন আছে। অপরাধীর বিচার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

অন্যদিকে ধর্ষণের ভিডিও এবং ছবি পরিস্কারভাবে আপলোড করাটাই হলো জংলীদেশ বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত কাজ। এ ভিডিও আপলোড না হলে, এবং ভাইরাল না হলে (এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এখানে), ধর্ষনকারীদের ন্যুনতম লজ্জা পাওয়ারও তো কোন উপলক্ষ থাকতো না।

ভিডিওতে দেখা গেলো স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা অসহায় বাঙালি মেয়েটিকে ঘিরে ধরে শেষ কাপড়ের টুকরাটুকুও টান দিয়ে নিয়ে উল্লাসে চিৎকার করতেছে, ফেইসবুক হইবো। ফেইসবুক হইবো। তখন আরেকজন বলতেছে, থাক লাইভ করিসনা। অর্থ্যাৎ, ভিডিও কর লাইভ করিসনা, পরে দেখা যাবে কি করা যায়।

বাঙাল যে ভিডিও আপলোড করা নিয়ে তেলতেলা বিতর্ক চোদায়, ধর্ষকরা তার থোড়াই কেয়ার করে। বরং তারা নিজেরাই চিৎকার দিয়ে ঘোষণা দিয়ে ভিডিও করে। আগে চিন্তা করেন, এইটা তারা কেন করে। তারপর তো আপলোড করা নিয়ে বিতর্ক করেন। আগে পিছে তো দেখেন, বাঁশ কত বড়। আপনারা ব্যস্ত আছেন সামনে নদীর পাড়ে প্রাকৃতিক কাশবনে নোংরা গোবর কেন পড়ে রয়েছে, তার প্রতিবাদ করা নিয়ে।

এ ভিডিওগুলো হলো ধর্ষকদের জন্য ট্রফির মতো। অনেকসময় সিরিয়াল কিলাররা খুন করে মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে কিছু একটা নিয়ে যায়। এইসব ট্রফি সাইকোপ্যাথদেরকে গ্র্যাটিফিকেশন দেয়।

তাছাড়া এসব ভিডিও তাদের ক্ষমতা ও শক্তির দলীলও বটে। স্থানীয় পর্যায়ে ধর্ষকদের অবস্থানকে শক্ত করে। নোয়াখালীর মতো এইরকম হাজার হাজার ভিডিও আছে। তার মাঝে একটা দুইটা প্রকাশ পেয়ে গেলে এবং ভাইরাল হলে তখন বাঙাল উত্তেজিত হয়ে উঠে। ‘একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে’ বলে আরেক মিথ্যা তুলনার ভন্ডামি করে তারা বরং ধর্ষণকেই সমর্থন করে যায়।

সমস্যা নাই, একটা দুইটা ভাইরালকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার পর বাঙালে বিচার পাওয়ার তৃপ্তি নিয়ে তার আপন মা-বোনের ধর্ষিতা ও ভিডিও হওয়ার জন্য নাকে তেল দিয়ে প্রতীক্ষা করবে। এর নাম প্রাকৃতিক জীবনচক্র। অথবা মহান স্বাধীনতার মধু।

উৎস । তারিখ: 2020-10-05 03:21:22

12 thoughts on “ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করার বিরুদ্ধে সুশীল মতামতটা বাংলাদেশে আসলে একটা গান্ডু মতাম – আমান আবদুহু”

  1. এখন আবার শুরু হইসে “সব পুরুষ এক না” জনিত মারামারি। মানে আবেগ একবার উঠলে ভাই রে ভাই!

  2. ভাই অপরাধীর পক্ষে আইনজীবী না দাঁড়ানো নিয়ে বলদদের মতামত নিয়েও আমার বিশ্লেষণটা এরকম।

  3. পরবর্তীতে এই দলীল মন্ত্রী, এম্পী হওয়ার দলীল হিসেবে কাজে লাগবে

Comments are closed.