টঙ্গির মোজাম্মেলের ঘটনা নিয়ে যে লেখাটা সবাই কপি পেস্ট করতেছে, আমিও করেছি, ঐখানে – আমান আবদুহু

টঙ্গির মোজাম্মেলের ঘটনা নিয়ে যে লেখাটা সবাই কপি পেস্ট করতেছে, আমিও করেছি, ঐখানে অরিজিনাল পোস্টার কায়রতি করে সাজিয়েছে। হুমায়ুন আহমেদের দেয়ালের অরিজিনাল টেক্সট হলো:

“মোজাম্মেল ধরা পড়েছে মেজর নাসেরের হাতে। স্থান: টঙ্গি।

বঙ্গবন্ধু ঘরে ঢোকামাত্র মোজাম্মেলের বাবা ও দুই ভাই কেঁদে বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ল। টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতিও পায়ে ধরার চেষ্টা করলেন। পা খুঁজে পেলেন না। পা মোজাম্মেলের আত্মীয়স্বজনের দখলে।

বঙ্গবন্ধু বললেন, ঘটনা কী বলো?

টঙ্গি আওয়ামী লীগের সভাপতি বললেন, আমাদের মোজাম্মেল মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। মেজর নাসের তাকে ধরেছে। নাসের বলেছে, তিন লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দিবে।

মিথ্যা মামলাটা কী?

মোজাম্মেলের বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, খুনের মামলা লাগায়ে দিয়েছে।
টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতি বললেন, এই মেজর আওয়ামী লীগ শুনলেই তারাবাতির মতো জ্বলে ওঠে। সে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে – টঙ্গিতে আমি কোনো আওয়ামী লীগের বদ রাখব না।

বঙ্গবন্ধু! আমি নিজেও এখন ভয়ে অস্থির। টঙ্গিতে থাকি না। ঢাকায় চলে এসেছি। (ক্রন্দন)

বঙ্গবন্ধু বললেন, কান্দিস না। কান্দার মতো কিছু ঘটে নাই। আমি এখনো বেঁচে আছি। মরে যাই নাই। ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিকভঅবে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন। মেজর নাসেরকে টঙ্গি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জরুরি নির্দেশ দেওয়া হলো।

মূল ঘটনা (সূত্র- বাংলাদেশ লিগ্যাসি অফ ব্লাড: এন্থনি ম্যাসকারানহার্স): এক নবদম্পতি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়ি আটক করে। গাড়ির ড্রাইভার ও নববিবাহিত তরুণীর স্বামীকে হত্যা করে। মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে। মেয়েটির রক্তাক্ত ডেড বডি তিন দিন পর টঙ্গি ব্রিজের নিচে পাওয়া যায়।

মেজর নাসেরের হাতে মোজাম্মেল ধরা পড়ার পর মোজাম্মেল বলল, ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে তিন লাখ টাকা দেব। বিষয়টা সরকারী পর্যায়ে নেবেন না। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাব। আপনি পড়বেন বিপদে। আমি তুচ্ছ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না।

মেজর নাসের বললেন, এটা তুচ্ছ বিষয়?

মোজাম্মেল জবাব দিল না। উদাস চোখে তাকাল।

মেজর নাসের বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার ব্যবস্থা করব। তোমার তিন লাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো।

মোজাম্মেল বলল, দেখা যাক।

মোজাম্মেল ছাড়া পেয়ে মেজর নাসেরকে তার বাসায় পাকা কাঁঠাল খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিল।”

সূত্র: দেয়াল/ হুমায়ুন আহমেদ, পৃষ্ঠা ৮৫ – ৮৬।

উৎস । তারিখ: 2020-09-27 10:49:02

5 thoughts on “টঙ্গির মোজাম্মেলের ঘটনা নিয়ে যে লেখাটা সবাই কপি পেস্ট করতেছে, আমিও করেছি, ঐখানে – আমান আবদুহু”

  1. এইটা কাজী মোজাম্মেল। মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী ডিফ্রেন্ট মাল, সে নিজেরে জয়দেবপুরের ১৯ মার্চের প্রতিরোধের “মহানায়ক” মনে করে।

    অবশ্য এত কিছু লেইখা লাভ নাই। বাঙ্গালি বদঅভ্যাসের দাস, বদঅভ্যাস পাল্টানো তার কাছে মা বোনেরে রেইপ হইতে দেখার চেয়ে কঠিন।

  2. ভাই, লিগ্যাসি অফ ব্লাড বইয়ের রেফারেন্স আছে ৪৮ পৃষ্ঠায়…
    চাইলে এইটাও যোগ করে দিতে পারেন

Comments are closed.