বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শত্রু এবং সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নেতা ওরফে ট্রাইবুনালের প – আমান আবদুহু

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শত্রু এবং সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নেতা ওরফে ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর দাশগুপ্তবাবু জানিয়েছেন তারা বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান মানেন না। এবং তারা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতে চান।

আমরা গুপ্তবাবুর এই দাবীর সাথে অর্ধেক সহমত পোষণ করি। আমরাও বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান মানি না। তবে বাকি অর্ধেকে দ্বিমত আছে। ঘটনার প্রতিকার বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া নয়, বরং এর প্রতিকার হলো নতুন সংবিধান তৈরি করা। ব্র্যান্ড নিউ সংবিধানের মধ্য দিয়েই হতে পারে বাংলাদেশের সেকেন্ড রিপাবলিকের সূচনা।

বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার খাহেশটা আসলে হলো গুপ্তবাবুদের বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব-বিরোধীতার নিদর্শন। বাংলাদেশের এই অটিস্টিক সংবিধান যারা রচনা করেছিলো তাদের দুইটা বড় বৈশিষ্ট্য ছিলো।

এক, তারা কল্পনাতে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ছিলো না। তাদের কল্পনাতে ছিলো ধরা দিয়ে জেলে গিয়ে কিছুদিন বিশ্রাম করে ক্ষমতা পাওয়া। কিন্তু ভাড়ৎদাদা এসে হাতে স্বাধীনতার মোয়া ধরিয়ে দিলো। সুতরাং সংবিধান রচনার মানসিক যোগ্যতা তাদের কখনোই ছিলো না।

দুই, তদুপরি যখন স্বাধীনতা এসেই গেলো, তাদের মনমস্তিস্ক পুরোপুরি ছিলো কলোনিয়াল গোলামসুলভ চিন্তায় ভর্তি। স্বাধীনতা কি জিনিস এরা জানেই না। এরা রক্তেমাংসে জানে গোলামী। এদের কাছে স্বাধীনতার অর্থ হয়ে দাঁড়ালো আগের জমিদারকে সরিয়ে নিজেরা জমিদার হয়ে বসা।

এরপর থেকে সংবিধানে কাটাছেড়া চলতেছে। যার ক্ষমতা আছে সেই এসে বাংলাদেশের সংবিধানকে ুদে দেয়। কেউ একবার দুইবার করে শান্ত হয়, আবার আওয়ামী লীগের মতো বাটপারগুলা উপর্যুপরি চালাতেই থাকে। সুতরাং বাংলাদেশের সংবিধানের অবস্থা এখন দাঁড়িয়েছে অসংখ্য বচড কসমেটিক সার্জারির ফসল এখানে ঝুলে যাওয়া সেখানে দলা পাকিয়ে যাওয়া ঐখানে নরম হয়ে যাওয়া সেইখানে শক্ত মাসল সহ সানাই-কারদাশিয়ান-হিরো আলম-মিশা সওদাগরের একটা হাইব্রিড ক্রসওভার। এইটা বেয়ন্ড রিপেয়ার। কোনদিন এইটা ঠিক করা যাবেনা।

একমাত্র উপায় হলো নতুন সংবিধান রচনা, সেই সংবিধানের রক্ষাকবচ নিশ্চিত করা এবং তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা করা। আজকে থেকে পঞ্চাশ বছর পরে হলেও। এইটা না হওয়া পর্যন্ত ততদিন এই দেশ গুপ্তবাবুদের লীলাভূমি থেকে যাবে।

উৎস । তারিখ: 2020-08-19 10:24:15

10 thoughts on “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শত্রু এবং সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নেতা ওরফে ট্রাইবুনালের প – আমান আবদুহু”

  1. এই জাতি নতুন সংবিধান রচনা যদি করেও পুরানটা থেকে কপিপেস্ট করে বসায় দিয়ে রাখবে :p

  2. ভাই একটা তিতা কথা বলি, বাংলাদেশ বাই ডিজাইন ওয়াজ সাপোজ টু বি ইন্ডিয়া’স বীচ! মধ্যেখানে জিয়া আর খালেদা একটু লেট কইরা দিছে, বাট আবার ট্র‍্যাকে চইলা আসছে! আলহামদুলিল্লাহ এইবার কাজ হয়ে যাবে!

  3. গুপ্ত বাবুরা কোন্ গুপ্ত তালে নাচে, সেটা আর অগুপ্ত নেই ! তবে নাচের সাথে দেহ দিলে একদিন দায় মেটাতে হয় !!

  4. বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল গোলামজাত। সেটাও আবার হুবহু টুকলিফাই করেছেন ইন্ডিয়ার টা দেখে দেখে। আর সেই নকল করা সংবিধান বাংলায় সুখপাঠ্য করেছেন সফেদ পাঞ্জাবী ও ধুতিকে লুংগি বানিয়ে পরা পদ্মভূষণ ড. আনিসুল হক।
    আমাদের চিটাগং ইউনিভার্সিটিতে ল ডিপার্টমেন্টে এক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন পদ্মভূষণ। তখনকার ভিসি বর্তমানে ক্রমাগত চেটে যাওয়া ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশনের চেয়ারম্যান ড.আব্দুল মান্নান খুব গর্ব করে বলেছিলেন, আমেরিকার সংবিধান বানাতে যেখানে ১২ বছর লেগেছে সেখানে আমরা মাত্র দুইমাসে তা করে দেখিয়ে দিয়েছি।
    বলেন নাই যে, ইন্ডিয়া ওদেরটা দেখে কপি করতে বাধ্য করেছিল।

  5. আমি স্কুল জীবনে থাকার সময় জামাত শিবির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীদের মতো মানুষগুলোকে খুব একটা পছন্দ করতাম না তাদের হিন্দু বিদ্বেষ আর প্রয়োজনের বেশী অহেতুক ভারত বিরোধীতার কারনে। মানে এখন যেমন জয় বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধের ফিল্টারে সব বদমায়েশ হালাল হয়ে যায় তেমন তখন ভারত বিদ্বেষের ফিল্টারে বদমায়েশী হালাল করা হতো।

    আমি এখন জামাত প্রেমী কিংবা ভারত প্রেমী ব্যাপারটা সেরকম না তবে এখন বুঝি তারা ক্ষমতায় থাকতে কেন হিন্দুদের লাত্থি গুতার উপরে রাখতো। তারাতো ইতিহাসের এমন সব গুরুত্বপুর্ন চ্যাপ্টার দেখেছে যা আমরা দেখিনি। হিন্দুদের গলা কেটে রক্ত দিলেও আমরা হবো অত্যাচারী মোল্লা জঙ্গি জাতি। ওরা সোজা কথায় মুসলমানদের পায়ের নীচে রেখে জমিদারী ফেরত চায়।

Comments are closed.