আজ সাকিব দেশের নামকরা সেলেব্রিটি বলে সে মাফ চেয়ে সুন্দর কিছু কথা বলে পার পেয়ে গে – আসিফ সিবগাত ভূঞা

আজ সাকিব দেশের নামকরা সেলেব্রিটি বলে সে মাফ চেয়ে সুন্দর কিছু কথা বলে পার পেয়ে গেছে। লালমনিরহাটে যে লোকটি এতগুলো লোকের হাতে মারা গেলেন তিনি কি সুযোগ পেয়েছিলেন নিজের ব্যাপারে কিছু বলার? তার মৃত্যুটি কি একটি জাতীয় পর্যায়ের বিপর্যয় নয়? তার পরিবারের সাথে বা বন্ধুদের সাথে কি কথা বলেছিলো এই খুনীরা? ব্যাপারটার কোনও সরেজমিন তদন্ত হয়েছে কি (হ্যাঁ এর পেছনে রাজনৈতিক লোকের হাত ছিলো সেটা আমি শুনেছি – কিন্তু সেটা জানাই কি যথেষ্ট)? আমরা যারা ইসলামের আবেগের নাম করে যত্রতত্র ঘৃণামূলক আচরণ করে বেড়াই তারা কি পরিস্থিতি এইদিকে মোড় নেয়ার ব্যাপারে নিজেদের দায়ভার গ্রহণ করবো না?

একটা লোক ধর্মের নামে ওঠা মূর্খ আবেগের কাছে বেঘোরে প্রাণ হারালেন – এটা নিয়ে কি জাতীয় পর্যায়ে ও ধর্মীয় মহলে ঢালাও আলোচনা হয়েছে? এটা কি যথেষ্ট বড় ঘটনা ছিলো না একটি জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হবার জন্য? অন্তত একটি পূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক হওয়া কি উচিৎ ছিলো না আলেমদের থেকে শুরু করে নেতৃস্থানীয় লোকেদের? একটি মানুষের মারা যাওয়া কি বড় ঘটনা নয় যেখানে কুরআনে আল্লাহ্‌ ঘোষণা দিয়েছেন যে একটি মানুষকে মারা গোটা মানবজাতিকে হত্যা করার মত?

যদি একটি মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনাকে খুব বড় মনে না হয় এই দেশে – তাহলে এত এত লোকের মূর্খ আবেগে একজন লোকের ওপর হামলে পড়ার ব্যাপারটি কি বড় নয়? ঠিক কী পরিমাণ মানুষ এরকম কান্ডজ্ঞানহীন ধ্বংসাত্মক আবেগ পুষে রেখেছেন সেটার কি হিসেব নেয়া দরকার না? এ ঘটনা আবার যে হবে না সেটি নিশ্চিত করার জন্য কি ব্যক্তিগত ভাবে একটি স্ট্যাটাস বা একটি ৫ মিনিটের ইউটিউব ভিডিও দেয়াটা যথেষ্ট? এই সাকিব ছেলেটি যে সময়ের রকমফেরে মারা পড়তো না সেটা কি নিশ্চিত ছিলো? আর জানের নিরাপত্তার জন্য কি সাকিবের মত সেলেব্রিটি লেভেলে চলে আসতে হবে সবাইকে?

দেশের মানুষের ধর্মীয় কান্ডজ্ঞান বাড়ানোর জন্য জাতীয় ভাবে কী উদ্যোগ নিচ্ছি আমরা? সাকিব হোক বা সহিদুন্নবী – প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে কোনও ধরণের উস্কানিমূলক আচরণ ও গণবিপর্যয় রোধে ইসলামে ধৈর্য্য ও চিন্তার স্বাধীনতার যে মৌলিক নীতি তা প্রত্যেক পর্যায়ে সময় ধরে আলেমদের উচিত মানুষদের শেখানো (এবং নিজেদের জানা না থাকলে নিজেদের শিখতে হবে)। যেসব ইসলামি বক্তারা অপ্রাসঙ্গিকভাবে ইসলামের ফৌজদারি চিন্তার প্রায়োগিক বিধানগুলোকে সময়, স্থান, ও প্রসঙ্গের হিকমত অনুসারে না বুঝে ঢালাও ভাবে সাধারণ মানুষের আবেগকে উস্কে দেয়ার জন্য ব্যবহার করে তাদের বক্তৃতায় ও ওয়াজমাহফিলে – তাদের বিরুদ্ধে কান্ডজ্ঞানসম্পন্ন আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সচেতন করতে হবে – নিন্দা করতে হবে। এ ব্যাপারে গণমানুষের আবেগের পারদ কীভাবে ওঠানামা করে সেই প্রেক্ষিতে নয় বরং জ্ঞানগত নৈতিকতার প্রেক্ষিতে কথা বলার সৎসাহস দেখাতে হবে। সাকিবকে কটু কথা বলাটা ভুল হয়েছে সেটা সাকিব মুখ খোলার পর এখন বলছেন কেন? সেটা কি আগেও ভুল ছিলো না? কেন গণআবেগ ঘুরে যাওয়ার প্রেক্ষিতেই কেবল আমাদের কথার বোল ফোটে? এ কেমন অন্যায় ও অত্যাচার?

মানুষের ধর্মীয় চিন্তা যেন বুদ্ধিবৃত্তিক সচেতনতা ও স্বাধীনতা থেকে বিকাশ লাভ করে সেই পরমতসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি করতে হবে। গণমানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে যেন তারা আল্লাহ্‌র রাসূলের (সা.) শিক্ষা অনুয়ায়ী সবর এখতিয়ার করতে পারে ও মাকারিমুল আখলাক বা সুন্দর চরিত্র দিয়ে সকল পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারে।

উৎস । তারিখ: 2020-11-16 23:05:41

35 thoughts on “আজ সাকিব দেশের নামকরা সেলেব্রিটি বলে সে মাফ চেয়ে সুন্দর কিছু কথা বলে পার পেয়ে গে – আসিফ সিবগাত ভূঞা”

  1. তথাকথিত ইসলামিস্টরা অসহ্য হয়ে উঠেছে। এদের বাড় সীমা ছাড়িয়ে গেছে!

  2. খুব ভালো বলেছেন।
    তবে সমস্যা হোলো আমারাতো মনে করি দেশে কোনো আলেম নেই। এজন্য আমরা কাছাকাছি আসতে পারিনা।
    নিজের এমন বিচক্ষণ ইলম অন্যকারো সাথে হিকমার সহিত শেয়ার করতে পারি না। বা অন্যের টা নিতেও পারি না।

  3. একটি মানুষকে মারা গোটা মানবজাতিকে মারার মত অপরাধ – এই বাণীর শানে নুযুলটি দয়া করে বলবেন? কোন প্রেক্ষাপটে কাকে বা কাদেরকে উদ্দেশ্য করে এ আয়াত নাজিল হয়েছিল? Asif Shibgat Bhuiyan

  4. ভাই,আপনি খুবই লেইম পোস্ট দেন মাঝেমাঝে। লালমনিরহাটের ঘটনা ইসলামপন্থীরা করছে তার একটা প্রমাণও নাই।অনেক ভ্যাইগ বিষয় এখানে আছে।স্টিল আমি যদি ধইরাও নিই এখানে কোন ষড়যন্ত্র ছিল না স্থানীয় মুসলিম মবরা এইটা করছে।তাও সব মুসলিমরা বা ইসলামপন্থীরা লাইন ধইরা এইটার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে এইটা আমি বিশ্বাস করি না।এইটা কুরান অবমাননার সাথে সম্পৃক্ত বলে এত কথা হচ্ছে,অথচ এমন ঘটনা খোদ রাজধানীতেই ঘটে।এইটার জন্য ইসলামপন্থীরা দায়ী?এইটা কি আমাদের দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের অনাস্থার প্রকাশ নয়?কারে বলতিছি এইসব কথা?ধুর!!যে সুযোগ পাইলেই খালি লোকের দোষ দেয় আর আলেমদের দোষ দেয়,তারে আর কি বলা যাবে।

  5. তাহলে আপনার মতে সে প্রদীপ প্রজ্জলন করে কোনো অন্যায় করে নাই? মানুষ প্রতিবাদ না করলে তো সে এটাকে সঠিক বলেই ধরে নিত।

  6. বাংলাদেশে তো কোনো আলেম নেই। তাও যদি আপনার মতো আর মাত্র ২ জন আলেম থাকতো, তাহলে একটি গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করাই যেতো।

  7. ভাই লেখাটা সেই হইছে
    আমার তো মনে চাইতাছে সব হুজুরদের উগ্র বাদি ট্যাগ লাগাই,সেটা হইতে বাধা দিলো এই রিপোর্ট, এহন আই কিতা করুম

  8. যদিও এদেশে কোনো আলেমই নাই। তবুও হাইপোথেটিকালি হোক আর ঘুমের ঘোরে হোক, যাদেরকে পোস্টে আলেম হিসেবে এড্রেস করে চিলে কান নেয়ার মতো ন্যাক্কারজনক অপরাধের দায়ে কান ধরতে বললেন, তাদেরকে ধরে ধরে ঘাড় মটকে দিলেইতো হলো! মু*বসেনারা এ কাজে সাহায্য করার জন্য উদারহস্তে এগিয়ে আসবে। তারা এক পায়ে রাজি। শুধু হাঁক দিন একটা। এটাই কি যথোচিৎ জাতীয় উদ্যোগ হতে পারে না? পরিবেশ একেবারে ঠান্ডা হয়ে পরমতসহিষ্ণু হয়ে যাবে। তারপর জাতিরে ক্রিটিকাল থিংকার বানাইবেন আর ইলমুল ওয়াকিয়া চর্চা করবেন।

  9. দেশ অথবা আন্তর্জাতিক কোন পর্যায়েই এই লোকদের নিয়ে কোন আলোচনাই হয়নি !

  10. ভাই এদেশে যদি শান্তিতে থাকতে চান দুইটি বিষয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেন
    রাজনীতি, ধর্ম
    এই দুই ক্যাটাগরির মানুষেরা যখন তখন মানুষ পোড়াতে ওস্তাদ যদি এদের বিরুদ্ধে যান

  11. লালমনিরহাটে ধর্মান্ধ লোকের কাজ না। ২৮ শে অক্টোবরে কি ধর্মান্ধ লোকেরা পিটিয়ে মেরেছিলো? লালমনিরহাটের গ্রেফতার হওয়া প্রধান আসামী শ্রমিক লীগের সভাপতি। ধর্মান্ধ অর্থ ধর্ম নিয়ে যে অন্ধ হয়ে আছে। ইসলাম ধর্ম মেনে তো কেউ অন্ধ হয় না পাগলা। এসব বলে নিজের ধর্ম বিদ্বেষ সুক্ষ্ণভাবে প্রকাশ করছেন।

  12. হত্যার হুমকির আগে সাকিব্বাই তো ক্ষমা চায়নি।
    এ থেকে আমরা বুঝলাম, আল্লাহর হাতে পাকড়াও হওয়ার থেকে রামদা নিয়ে ভয় দেখানো উগ্রপন্থী যুবককে বেশি ভয় পায় এইসব ছেলেবেটিরা।

    দাগ থেকেই যদি নতুন কিছু হয় তাহলে দাগই ভালো।

  13. জি বেশী বেশী পুজোই যাবেন। মাথায় তিলক দিবেন। মাঝেমধ্যে পুজারীও সাজবেন। সমস্যা নেই

  14. রাষ্ট্রযন্ত্রই এসব হত্যাগুলোকে ইজি করে ফেলেছে ৷ লগি বৈঠা দিয়ে খুচিয়ে মারার দৃশ্য দেখে মানুষ এখন গা সওয়া, তাই এ ধরনের ঘটনা এখন কাউকে নাড়া দেয় না ৷
    এখানে হয়তো ধর্মের দোহাই দিয়ে মারার কারনে আমাদের বেশি খারাপ লাগছে ৷ কিন্তু একটা দেশের সমগ্র বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে এগুলোকে বিচার করতে হবে ৷ অবক্ষয়ের শুরুটা যেখান থেকেই হোক না কেনো তার ইম্প্যাক্টটা ম্যাসিভ ৷ কারন, নগর পুড়িলে দেবালয় এড়ায় না ৷

  15. আমরাও তো তাই বলি, আপনি কোন আলোচনার উদ্যোগ নেননাই কেন, দেশের শ্রেষ্ট এবং একমাত্র সত্যিকারের আলেম হয়েও? যেখানে দেশে আর কোন আলেম নাই, গুরুদ্বায়িত্বটাকি আপনার উপর বর্তায় না, বাংলার শাইখ ইয়াসির ক্বাদি!?

  16. নিজেদের সেলেব্রিটি ভাব প্রকাশের হাতিয়ার হিসেবে একদল আলেম যেমন ধর্মকে ব্যাবহার করে তেমনি একদল জ্ঞান পাপি কথিত সুশীল সাজতে গিয়ে ধর্মীয় লোকদের অন্ধ বানাতেও বিজি আছে

  17. উনাকে মেরে ফেলার যুক্তির বাণিও বাংগালী মুমিনগণ ক্ষণে ক্ষণে দিয়েছে ভাই। কি হবে এদের বুঝাইয়া।

  18. এনা‌কে ক‌মেন্ট করাটাও জন‌প্রিয়তা বা‌ড়ি‌য়ে দেয়া। ধর্মান্ধতা ছাড়া ই‌নি কিছু বো‌ঝেননা।

  19. অন্তত জলিলকে যখন নাস্তিকরা কটু কথা বলা শুরু করেছে তখন নায়ক জলিল তার জন্য ক্ষমা চায়। ইসলাম উদারতা দেখাতে দেখাতেই বিলীন হয়ে যাবে? এদেশের অধিকাংশ মুসলমানরা এমনেই অনেক উদার তারা বিশ্বনবীর ব্যাঙ্গ কার্টুন দেখার পরও স্বাভাবিক থাকে। এরপরও বলবেন আমাদেরকে আরো উদার হতে হবে?

  20. মডারেট মুসলমানরা দিন দিন উদার হয়ে পড়ছে। এই যে সাকিব মাপ চেয়েছে এই ক্রেডিট কিন্তু তৌহিদী জনগনের। তৌহিদী জনগন আছে বলেই মডারেট মুসলমানরা আজও ক্ষমা চায়।

  21. ঘটনা যাই হোক এই লোক মনে প্রানে ধরেই নিছে এটা ইসলামপন্থীদের কাজ আর সেখানে আলেম ছিলই ছিল।আলেম সমাজ কেন ক্ষমা চাইবেনা এই আফসোসে উনার কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে আছে।

  22. এদেশের মানুষ কোন জিনিসটা প্রকৃতই বুঝি?? ধর্ম না দুনিয়ার আর সব?? বড় প্রশ্ন নিঃসন্দেহে।
    আমরা নিজের মত প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআন হাদিস টানাটানি করি, কুরআন হাদিস প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের যুক্তি বুদ্ধি খাটাইনা।।

    এটা অনেকটা বা সবটা ‘আনানিয়্যাত ‘ই বলে মনে হয়।

Comments are closed.