লকডাউন কেন? – আসিফ সিবগাত ভূঞা

লকডাউন কেন?
লকডাউন করলে কি সব ভাইরাস গুলো মরে যাবে আর না করলে বেঁচে থাকবে? 

ব্যাপারটা নিয়ে একটা ক্ল্যারিফিকেশন দরকার | আমাদের বুঝতে হবে যে লকডাউন হচ্ছে ওয়ান পিস্ অফ এ পাজল, একটা চেয়ারের একটা পা| এর সাথে আরো তিনটা পা দরকার হবে চেয়ার টাকে দাঁড়িয়ে রাখতে| লকডাউন একা একা কখনোই কাজ করে না – আরো কিছু পদক্ষেপ / ব্যবস্থা এর সাথে কম্বাইন করলে একটা এফেকটিভ প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় ভাইরাস / বা যেকোন মহামারীর এর বিরুদ্ধে|

লকডাউন যা করে তা হচ্ছে এই পদক্ষেপ কার্ভটাকে ফ্ল্যাট করে দেয়| কার্ভ ফ্ল্যাট করে দেয়া মানে তার একটা উদাহরণ দেই| ধরুন চট্টগ্রাম শহরে ১০ লক্ষ লোক ইনফেক্টেড হলো একই সাথে / একই সময়ে এবং তার ২০% – মানে ২ লক্ষ মানুষ কে হাসপাতালে ভর্তি করার এবং ৫০,০০০ মানুষকে আইসিইউ তে ভর্তি করার প্রয়োজন দেখা দিলো এক সপ্তাহ সময়ের ব্যাবধানে| কিন্তু চট্টগ্রামের ( চট্টগ্রাম কেন পৃথিবীর কোনো শহরের ই ) হাসপাতাল গুলোর ক্যাপাসিটি নাই একসাথে এতো ক্রিটিকাল রুগীর চিকিৎসা দেয়ার| যদি এই ঘটনা ঘটে যায় তাহলে প্রচুর মানুষ মারা যাবে এবং স্বাস্থ সেবা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে| হয়তোবা চট্টগ্রামে এই ঘটনাই এখন ঘটছে| এই ঘটনা প্রিভেন্ট করার জন্য এপিডিওলজিস্ট রা যা বলেন তা হলো সোশ্যাল আইসোলেশন, লকডাউন এনফোর্স করে সময় বাই করা | এই লকডাউন এর সময়টা কর্তৃপক্ষ ব্যয় করবে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং যেমন টেস্টিং ক্যাপাসিটি বাড়ানো, হাসপাতালে বেড. আইসিইউ বেড বাড়ানো, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবারহ নিশ্চিন্ত করা, চিকিৎসক / নার্স দের ট্রেইনিং দেয়া, পিপিই নিশ্চিন্ত করা| লকডাউন চেয়ারের একটা পায়া হলে – এই ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিন্ত করা, চিকিৎসক ট্রেইনীং চেয়ারের আরো তিনটি পায়া|

একটা সাসটেইন্ড লকডাউন মেইনটেইন করার ফলে যা হচ্ছে তা হলো – ওই যে ওই দশলক্ষ ইনফেকশন, দুই লক্ষ হসপিটালাইজেশন ওর ৫০০০০ আইসিইউ ভর্তি -ওগুলা জুনের ১ থেকে সাত তারিখের মধ্যে না হয়ে অগাষ্টের ১ তারিখ আর ডিসেম্বরের তিরিশ তারিখের মধ্যে লম্বা সময়টার মধ্যে হবে| হাসপাতাল গুলো সময় পাবে প্রস্তুতি নেয়ার এবং সব রুগী একদিন হাসপাতালে এসে সিস্টেম টাকে ওভারহেলম না করে স্লোওলি আসবে এবং বেটার চিকিৎসা পাবে -মৃত্যুর হার অনেক কম হবে|

কিন্তু ক্যাপাসিটি বিল্ড না করে লকডাউন দেয়া আর খুলে দেয়ার ফলে যা হবে তা হচ্ছে আমরা জলোচ্বাস এর মতো মহামারীর এই সার্জ টা জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে নিয়ে যাবো| কিন্তু জুনের বদলে অগাষ্টে একই সাথে দুই লক্ষ লোক হাসপাতালে ভর্তি হবে, ক্যাপাসিটি বিল্ড না করার কারণে স্বাস্থ সেবা ব্যবস্থা ব্যর্থ হবে রুগীর ধাক্কা সামাল দিতে|

যখন মহামারী কোথাও আঘাত হানে – প্রথম ধাক্কায় মৃত্যুর হার খুব বেশি হয় এবং বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রথম ধাক্কা সামলে নিয়ে অর্গানাইজ হয়ে দাঁড়াতে পারলে দ্রুত এই মৃত্যুর হার কমতে থাকে| চায়নাতে দেখেছি একই সিস্টেমে যেখানে জানুয়ারি মাসে মৃত্যুর হার ২৫ % একমাস/ দুমাস পরে সেই মৃত্যুর হার নেমে ০.৪ % এ নেমে এসেছে| আমরাও আমাদের এখানে তাই দেখছি| এখন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রুগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও রুগী গুলো তেমন আইসিইউ তে আসছে না| কেন? ভাইরাস কি দুর্বল হয়ে গেলো?

আসলে তা না – ভাইরাস ভাইরাসের মতোই আছে, আমাদের স্বাস্থ সেবা ব্যবস্থা সবল হয়েছে| ভালনারেবল নার্সিং হোম পপুলেশন বেটার প্রটেক্ট হচ্ছে, মানুষ সিম্পটম নিয়ে বেশ এওয়ার, ওরা টাইমলি হাসপাতালে আসছে | হাসপাতালেই চিকিৎসা ভালো হচ্ছে| গত ছ মাসে আমরা এই রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কিছু জেনেছি, এখন অনেক সিরিয়াস কমপ্লিকেশন আমরা প্রিভেন্ট করতে পারি|

এই ভাইরাস টা কোনো শহরে আজীবন তান্ডব চালিয়ে যাবে না| এখন ঢাকা এবং চট্টগ্রামে মহামারির সুনামি চলছে, হয়তোবা মাসদুয়েক পরে অন্য শহরে গিয়ে আঘাত হানবে|

আমাদের ঢাকা চট্টগ্ৰাম কার্ভ ফ্ল্যাট করার জন্য কি করছে এখন? অন্য শহর গুলো কি ক্যাপাসিটি বিল্ড করছে?
আমরা নাগরিকরা সবাই কি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি কার্ভ ফ্ল্যাট করার জন্য আর ক্যাপাসিটি বিল্ড করার জন?

উৎস । তারিখ: 2020-06-09 10:12:45

1 thought on “লকডাউন কেন? – আসিফ সিবগাত ভূঞা”

  1. লক্ষণ শুরু হবার পরপরই আইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিন সেবনে কিরকম উপকার হতে পারে?

Comments are closed.