”ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল দেওয়ার গোঁসাই” – আসিফ সিবগাত ভূঞা

”ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল দেওয়ার গোঁসাই”

–আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করোনা প্রতিরোধের নামে সাধারণ মানুষের উপর চড়াও হবার যে ডিসটার্বিং ভিডিওগুলো দেখতে পাচ্ছি, তা থেকে উপরের প্রবচনটা মনে পড়ল। একে একে বলছি কেন।

১) বাংলাদেশে প্রথম থেকে এনফোর্সড কোয়ারেন্টাইন চালু করা গেলে সরকারের টাকাপয়সা একটু খরচ হলেও সাধারণ মানুষ বেঁচে যেত। সেটা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন ঘোষিত অথবা অঘোষিত লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। এতে আর্থিক বার্ডেন সরকারের উপর থেকে শিফট হয়ে গিয়ে পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর উপর। অন্যভাবে বলতে গেলে, আজকের লকডাউন সিচুয়েশনের জন্য সরকারের অদুরদর্শীতা ও অব্যবস্থাপনা দায়ী। আর সেই দায় বা বার্ডেন বহন করছে দেশের দিন আনে দিন খায় যে মানুষগুলো, তারা।

২) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনে সুস্পষ্ট, একদম ক্লিয়ারকাট লেখা আছে, রেসপিরেটরি সিম্পটম নেই এমন কারও মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই, যদি না সে অন্য কোন রোগীর সেবায় নিয়োজিত থাকে। তার মানে হলো, মাস্ক পরবে কেবল তারাই যাদের হাঁচি-কাশি আছে আর ডাক্তার-নার্স তথা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা। সেখানেও কথা আছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা সাধারণ ক্ষেত্রে পরবে সার্জিকাল মাস্ক, আর এ্যারোসল জেনারেটিং প্রসিডিউর যেমন ইনটিউবেশন, রেসপিরেটরি রিসাসিটেশন–এসব প্রসিডিউরের সময় পরবে এন৯৫ রেসপিরেটর মাস্ক। বাজারে এখন যেসব মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে তা তো কোন রকম প্রোটেকশন দিতেই পারেনা, বরং ক্ষতির কারণ হতে পারে। পরের পয়েন্টে বাজারি মাস্কের ক্ষতির দিকটা লিখছি।

৩) করোনাভাইরাসের ব্যাস বা সাইজ ১২০ ন্যানোমিটার যা বাজারি মাস্কগুলোর যে ছিদ্র তার থেকে ছোট। কাজেই, কেউ হাঁচি-কাশি দিলে তার সাথে ভাইরাস অনায়াসে এইসব মাস্ক ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যেতে পারবে। উপরন্তু, মাস্ক পরার কারণে মানবদেহের স্বাভাবিক রিফ্লেক্স অনুসারে মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে জোরে নিঃশ্বাস নেয়। এতে করে, বাতাসে করোনাভাইরাসের কণা থেকে থাকলে তা আরও সহজে মাস্ক ভেদ করে নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করবে। কাজেই, লাঠিপেটা করে পুলিশ মূলতঃ মানুষকে করোনাভাইরাসে আরও বেশি এক্সপোজ ও ভালনারেবল করছে।

৪) মাস্ক পরতে নিষেধ করার আরও কারণ আছে, যা মনস্তত্ত্বের সাথে জড়িত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দিয়েছে, ‘false sense of security’ বা ‘নিরাপত্তার ভ্রান্ত অনুভূতি’। এর মানে হলো, আপনি যখন মাস্ক পরবেন, আপনি ভ্রান্তভাবে নিজেকে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ ভাববেন, যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি মোটেও সুরক্ষিত নন (এর কারণ আগের পয়েন্টে ব্যাখ্যা করেছি)। ফলে আপনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে অন্যান্য সময় যতটা সচেতন হতেন, মাস্ক পরার কারণে আপনি আরেকটু কম সচেতন থাকবেন। আপনার দরকার হাত ধোওয়া বেশি বেশি করে, মুখন্ডলে হাত না দেওয়া, হাঁচি-কাশি আস্তিনে ঢাকা দেওয়া, চারপাশ ঘন ঘন মোছা–এসব বাদ দিয়ে আপনি মাস্ক পরে নিজেকে নিরাপদ ভাববেন, আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাবেন। আর পুলিশ মাস্কের জন্য লাঠির বাড়ি দিয়ে সেই দিকেই আপনাকে ধাবিত করছে।

৫) এখন আপনার যদি টাকা পয়সা থাকে, আপনি হয়তো সার্জিকাল মাস্ক বা এন৯৫ রেসপিরেটর মাস্ক কিনে পরা শুরু করলেন। কারণ, পুলিশের বাড়ি এড়াতে যদি মাস্ক পরতেই হয়, আপনাকে এগুলোই পরতে হবে। আমি নিজে যদি মাস্ক পরতে বাধ্য হই, বাজারি মাস্ক পরবোনা, কারণ তা ক্ষতিকর (কেন ক্ষতিকর তা ৩ ও ৪ নম্বর পয়েন্টে লিখেছি)। আমরা যদি এখন সবাই সার্জিকাল মাস্ক বা এন৯৫ রেসপিরেটর মাস্ক দাম দিয়ে কিনে পরিও (এগুলো এখন প্রায় মার্কেট আউট, তাই মূলতঃ আমদানি করে পরতে হবে), তাহলে সম্মুখ-সমরে থাকা আমাদের ডাক্তার-নার্স ভাইবোনরা কী পরবে? আমাদের মহামহিম স্বাস্থ্য বিভাগ তো বলেই দিয়েছেন যে স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের নিজ নিজ প্রোটেকশন নিজেদেরই ম্যানেজ করে নিতে হবে। পুলিশের বাড়ি এড়াতে আমাদের মতো যদু-মধুরা যদি মাস্ক পরে বসে থাকে, আমাদের ডাক্তার-নার্সরা তাদের মাস্ক কোথা থেকে সংগ্রহ করবে? কাজেই পুলিশের ডান্ডার বাড়ি কেবল রহিম রিকশাওয়ালার পাছায়ই পড়েনি, পড়েছে সমস্ত স্বাস্থ্য সেবাদানকারীর পশ্চাৎদেশেও, যেহেতু ওখানে ওনাদের মানিব্যাগ গোজা থাকে।

কাজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাই-বোনদের অনুরোধ করব, মানুষের বাইরে ঘোরাঘুরি নিয়ন্ত্রণ করছেন করেন, কিন্তু অযাচিতভাবে এবং অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে দেশের নাগরিকদের গায়ে হাত তুলবেন না, অপমান করবেন না। মাস্ক পরার জন্য হুমকি ধামকি দেবেন না, যদি না নিশ্চিত হন যে ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে হাঁচি কাশি দিয়ে বেড়াচ্ছে। জাতি হিসেবে আমরা নিজেরা নিজেদেরকে যদি সম্মান দিতে না পারি, অন্যেরা এসে গায়ে পড়ে আমাদের সম্মান দিয়ে যাবেনা। যাদের গায়ে ডান্ডার বাড়ি বসাচ্ছেন, মনে রাখবেন, এদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমার আপনার ভাই-বোন-বাবা-চাচা।

উৎস । তারিখ: 2020-03-27 11:34:26

1 thought on “”ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল দেওয়ার গোঁসাই” – আসিফ সিবগাত ভূঞা”

  1. মাস্ক পরার জন্য হুমকি ধামকি দেবেন না, যদি না নিশ্চিত হন যে ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে হাঁচি কাশি দিয়ে বেড়াচ্ছে।—eta kibhabe ensure korbe? koyjonke nozor e rakhbe. kotokkhon follow korbe? my Doctor friend advised me mask ofcourse pora uchit.. baire gele. Also baire mask na porle ashe pasher lok khub birokto hoy. mask jehetu ektq barrier thake. tai psychological stress ta kom thake. i was not wearing mask last time i went to buy medicine, people gave me nasty looks. ekek din ekek gyan pai. chorom confused.

Comments are closed.