আশফাক নিপুনের নাটক দেখলাম। উনি মধ্যবিত্তরে দেখাইতে গিয়া – “এট লীস্ট মধ্যবিত্তের – ফাহাম আবদুস সালাম

আশফাক নিপুনের নাটক দেখলাম। উনি মধ্যবিত্তরে দেখাইতে গিয়া – “এট লীস্ট মধ্যবিত্তের সাংস্কৃতিক সুপেরিওরিটি দেওন হৌক” – এই চক্করে পড়েন নাই। তার মধ্যবিত্ত ট্রু মধ্যবিত্তের মতো এক্ট করে – দেইখা খুবই আরাম লাগসে। মধ্যবিত্তের এগ্জিস্টেন্সে আল্লাহতালা যে একটা অবিচ্ছেদ্য বিষয় – এইটা তিনি লুকাইতে যান নাই।

ঈশিতা ইজ স্টিল ভেরি কিউট। শি ইজ আ ভেরি কনভিন্সিং এক্ট্রেস। নিশো ছেলেটাও খুবই কনভিন্সিং।

নাটকটা খুবই স্যাড এবং খুবই রিলেটেবল। কিন্তু আমি এই ধরনের অবভিয়াস দুঃখ দেখানোর পক্ষপাতী না। আমার কাছে মনে হৈছে যে আশফাক নিপুনের এই গরীব চিন্তা থেইকা বাইর হওয়ার সময় হৈছে। উনার যদি ভালো দুই-তিনজন রাইটার থাকে আর স্ক্রীনে বাংলাদেশের কালারটা কী হবে এই সুরাহা করতে পারেন (মিউটেড সেপিয়া হলেই মেক্সিকো/বাংলাদেশ – এই চিন্তা থেকে বাইর হওন দরকার) – হি ইজ রেডি ফর নেটফ্লিক্স। উনার গ্র্যাজুয়েশানের সময় হৈছে। উনার গল্প যদি বাঙ্গাবি না হইয়া দুনিয়াবি হয় – উনি পারবেন।

আশফাক নিপুন “পরিমিতি” শব্দটার মানে কি বুঝতে পারছেন। এইটা একটা খুবই বড় ব্যাপার। আমি জীবনে দশজন বাঙালি আর্টিস্ট দেখি নাই যারা এই পর্যায়ে উৎরাইসেন।

আমার মনে হয় উনারে দিয়ে হইবে।

উৎস । তারিখ: 2020-08-29 21:19:01

28 thoughts on “আশফাক নিপুনের নাটক দেখলাম। উনি মধ্যবিত্তরে দেখাইতে গিয়া – “এট লীস্ট মধ্যবিত্তের – ফাহাম আবদুস সালাম”

  1. এই ঈদে উনার ৩টা নাটকই আমি দেখেছি (ইতি মা,ভিক্টিম,অযান্ত্রিক)। তিনটাই অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে ,একদম অসাধারণ ❤❤।ভবিষ্যতে উনার কাছে আরো ভালো কাজের প্রত্যাশা করতেই পারি😇

  2. আশফাক নিপুন ভাই খুব ভাল নাটক তৈরী করেন। অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর নাটক আছে… উনারে দিয়ে সম্ভব।

  3. Faham Abdus Salam, বাংগাবি না হইয়া দুনিয়াবি হওয়া-টা, আমার মনে হয়না বাংলাদেশের ভিজুয়াল লাইনের কেউ আগামী এক দশকেও সেটা পারবে। মোটামুটি সহনীয় মাত্রার স্টোরি টেলিং এর জন্যও ‘ক্লাস’ এর আইডিয়াকে malleable বানানোর যে ক্ষমতা আর্টিস্টের থাকতে হয়, সারফেস লেভেলের বাইরে যে সামান্য পরিমাণেও পলিটিক্যাল বিচক্ষণতা লাগে, সূক্ষত্মার সেন্স লাগে- সেইটা কারোই নাই। এবং এইখানকার ইনস্টিটিউশন, সোসাইটি ও মিডিয়াতে ঈমান রাইখা সেইটা সম্ভবও না। ইন্ডিয়াও দুনিয়াবি হইতে পারে নাই। অনেক অনেক দর্শক, অনেক বিরাট মার্কেট- ব্যস এইটুকুই।
    লিটারেচার ফিকশনে হয়ত দুনিয়াবি হওয়ার সামর্থ্য হয়ত খুব অল্প দুয়েকজনের ছিল এখানে, সাহসের অভাব বা অন্য অনেক কারণে সেটা কাজ করে নাই।

  4. আশফাক নিপুন ভাইয়ের প্রতি আমাদের প্রজন্মের অনেক কৃতজ্ঞতা আছে৷ হয়তো কোনো বিরাট মিছিল একদিন সেকথা জানাবে৷ বিশেষ ভাবে অস্থির সময়েও ওনার নিঃসঙ্গ দাড়িয়া থাকা এই জগতে আমাদের অনেক কিছু বিশ্বাস করায়৷

    ওনার অনেক নাটক আছে যেগুলা এখনকার সমাজ-রাজনীতি-ক্ষমতা পাঠের ভূমিকাও হতে পারে। “ফেরার পথ নেই” এর কথা বলতে পারি৷ ওনাকে এটার জন্যে আমরা মনে রাখবো৷ আপ্নাকে ধন্যবাদ ফাহাম ভাই আমাদের ইয়াদ করিয়ে দেয়ার জন্যে৷

  5. ফারুকীর ভাইবেদারাদারদের মধ্যে আশফাক নিপুনকে সব সময়ই অন্যদের তুলনায় ভালো নির্মাতা মনে হয়েছে। তার কয়েক বছরের পুরানো নাটক সুখের ছাড়পত্র, এমনকি খুঁনসুটি বা ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেমের মতো নিছক রোমান্টিক নাটকগুলো দেখলেও অন্য নির্মাতাদের চেয়ে ভিন্নতা চোখে পড়ে। এবারেরটা দেখিনি এখনও, দেখার ইচ্ছা আছে।

  6. ইশিতার একটা সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম কোন এক ম্যাগাজিনে, প্রায় বিশ বছর আগে! সেখানে ইশিতাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল এরকম – “আপনি আর তারিন নতুন কুঁড়ি থেকে মিডিয়াতে এসেছেন। তারিন দিব্যি নায়িকার রোল করছেন। কিন্তু আপনি এখনো পার্শ্ব চরিত্রে।
    ” ইশিতা তখন জাবাব দিয়েছেন অনেকটা এভাবে- “আমার সূর্য দেরিতে উঠছে, অস্তও যাবে দেরিতে”। তার কনফিডেন্স কেমন তার এই কথাতেই পাওয়া যায়।

  7. ইতি মা দেখেছিলাম।
    অসাধারণ।
    ভিক্টিম নামায়ে রাখছি এখনো দেখিনি।।।
    “এখানে তো কোন ভুল ছিলোনা”এই ঈদের সেরা নাটক,
    বোধ,ব্যাঞ্জনবর্ণ,ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তের ছিলো,টারজান ভিসার নির্মান ও মেসেজ ও অসাধারণ।

  8. গল্পটা আশফাক নিপুন ভাই এর নিজের লেখা। লো বাজেট আর গিয়ারে দারুন কাজ বের করতে উনার জুড়ি নাই।

  9. ইতি মা
    আমার কাছে ভালই লেগেছে। অন্তত ন্যাকামো আর ছিচ কাঁদানো ডঙ্গী গুলোর চেয়ে।

  10. জুয়া খেলে হজের টাকার ব্যবসহা, কিডনি বেঁচে টাকা জোগাড় এর আইডিয়া বেশী ভালা লাগে নাই। শেষে মায়ের চিঠিটাই নাটকটাকে একটু ভাসাইছে

  11. আশফাক নিপুণ উনার সমসাময়িকদের চেয়ে আলাদা। উনার গল্প বলার ধরনে ৯০ দশকের এর একটা ধাঁচ আছে যেজন্য এই সময়ে এসেও গল্পগুলোকে বাস্তব মনে হয়। সবসময় মনে হয় উনি কিছু বলতে চান কিন্তু এই রাষ্ট্র, এই শাসনব্যবস্থা উনাকে মন খুলে কিছু বলতে দেয়না।

  12. ইতি মা, থেকে ভিক্টিম অনেক ভালো করেছে।
    ভিক্টিম একেবারেই ক্লুলেস নাটক, এই নাটকে কোন ভুল নাই।

  13. ফাহাম ভাইয়ের ক্রিটিক পড়ে গতকাল আশরাফ নিপুন -এর ‘ইতি মা’ দেখলাম। Jahirul Sadi-কে ধন্যবাদ, লিঙ্ক দেয়ার জন্য। আমার মনে হয়েছে দিল্লী এখনও অনেক দূর। তিনি ছ্যাবলামি ছাড়া মধ্যবিত্তকে দেখিয়েছেন এটা সত্য। এটাও সত্য তিনি মধ্যবিত্তের জীবন থেকে আল্লাহ-কে আলাদা করে দেন নাই যেটা এখন খুব চালু। ইন ফ্যাক্ট উনি যে মধ্যবিত্তরে দেখাইসেন সেই মধ্যবিত্ত এখন আর নাটক সিনেমায় নাই বললেই চলে। আছে বড়লোক আর গ্রামের খেত। দুই জায়গায়ই আবার ছ্যাবলামি কমন। গ্রামটাও মেকি। গ্রামে বড় হওয়া আমি এই গ্রাম চিনি না, রিলেইট করতে পারি না। এই দুইটা ছাড়া উনার আর তেমন কোন প্রশংসা আমি করতে পারছি না। পরিমিতিবোধ শিখতে উনার এখনও বহু দেরি। হয়তো অন্যদের থেকে উনার পরিমিতি একটু বেশি, কিন্তু এখনও হয়ে উঠে নাই। দর্শক কম বুঝে, তার ইন্টারপ্রিটেশনের জন্য কিছু রাখা যাবে না, তাকে সব বুঝিয়ে বলতে হবে- এই মনোভাব থেকে নিপুন সাহেবও বের হতে পারেন নাই। পারলে এই নাটকের রান টাইম ১ ঘন্টার মধ্যে থাকত। অনেকেই উনার আরেকটা নাটকের কথা বলেছেনঃ ভিক্টিম। ওটা আর দেখার সাহস পাচ্ছি না।

Comments are closed.