বাংলাদেশীদের এক বিচিত্র প্রবণতা। একটা করে সাহেদ ধরা পড়ে – তারা বিপুল উৎসাহে ঝাঁপ – ফাহাম আবদুস সালাম

বাংলাদেশীদের এক বিচিত্র প্রবণতা। একটা করে সাহেদ ধরা পড়ে – তারা বিপুল উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়ে। টক শো থেকে ফেসবুক স্টেটাস – সব জায়গায় একই আলাপ। এখন সাহেদ কিছুদিন আগে সাবরিনা – তার আগে পাপলু।

এই দেশের প্রতিটা জীবিত প্রাণী জানে যে সাহেদরা একটা সিস্টেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সেই সিস্টেমের মূল কারিগর হোলো শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা হোলো বাংলাদেশের ভোট ডাকাত ইন চীফ। সব ধরনের দুর্নীতির মূল উৎসাহদাতা এবং জুডিশিয়ারি থেকে মিলিটারি – এই দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের প্রধান কারিগর হোলো শেখ হাসিনা। বিচারপতি সিনহা তার বইয়ে বলছেন যে শেখ হাসিনা প্রধান মন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রধান বিচারপতিকে গিয়ে থ্রেট করেছেন। জেনারেল সুহরাওয়ার্দী বলছেন – একটা শীর্ষ সন্ত্রাসীর ভাইকে (যিনি সুপারসিডেড অফিসারও বটে) মিলিটারির প্রধানপদে বসিয়েছেন।

এই সত্যগুলো চেপে আপনি সাহেদকে ট্রল করেন – কারণ আপনি মনে করছেন এই মুহূর্তে এটাই আমার সেইফ টার্গেট – লাল গাবদা একটা পানচিং ব্যাগ। সাহেদকে পচানো মানেই আওয়ামী লীগকে পচানো। রাজনীতির এই খেলাটা কখনোই এভাবে হয় না। বাংলাদেশে দুর্নীতির বিচারে সাহেদ কোনো চুনোপুটিও না। হি ইজ আ ফাকিং নোবডি। এইরকম ২-৩ শ সাহেদকে শেখ হাসিনা অনায়াসে কোরবানী দিতে পারবেন। কিন্তু আপনারা যখন সাহেদকে নিয়ে ট্রল করেন আপনারা আসলে শেখ হাসিনাকে একটা ব্রিদিং স্পেইস দেন। তিনি এক সপ্তাহ সময় নেন। সাহেদদের ধরেন RABকে লেলিয়ে দিয়ে – তারপর এফেক্টিভলি আপনার তর্ক ও ট্রলগুলো বাঘবন্দী করে ফেলেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা যে ধ্বংস হয়ে গেছে এর মূল কারণ সাহেদ না, নাসিম না, স্বাস্থ্য মন্ত্রীও না – এর মূল হোতা হোলো শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পুলিস, মিলিটারি, জুডিশিয়ারি ও প্রশাসন দিয়ে দুটো গ্র্যান্ড ভোট ডাকাতি করেছেন। এখন যারা আপনার হয়ে ভোট ডাকাতি করবে তারা তো তাদের সার্ভিসের মূল্য চাইবেই – নাকি? তাই তারা দুর্নীতি করে। এজ সিম্পল এজ দ্যাট। পুরা আওয়ামী লীগ, পুলিস, মিলিটারি, জুডিশিয়ারি ও প্রশাসন মিলে একটা মাফিয়া সিস্টেম তৈরী হয়েছে। যে যেভাবে পারছে – চুরি করছে। চুরির এই মহাপ্লাবন শুরু হয়েছে শেখ হাসিনার ভোট ডাকাতি দিয়ে। এই দেশের প্রতিটি দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক তাই শেখ হাসিনা। কিন্তু হাসিনাকে সমালোচনা না করে আপনারা যখন সাহেদের মতো একটা ফাকিং নোবডিকে নিয়ে পড়ে থাকেন – শেখ হাসিনা ও তার চামচারা আশ্বস্ত হয়।

ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মূল সংকট এই না যে সে দুধ পাচ্ছে না। তার মূল সংকট হোলো – দর্শকের জন্য তার দুধ না পেয়ে লাফানোটা কোনো দুঃখবোধ না – বিনোদনের উদ্রেক করে।

সাহেদরা একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণ না, প্রতিকারও না। যতোক্ষণ আপনি এই আওয়ামী জাহেলিয়াকে লাথি মেরে না বের করছেন ততোক্ষণ লাথি খাওয়াটাই আপনার একমাত্র পরিণতি।

উৎস । তারিখ: 2020-07-16 09:07:44

32 thoughts on “বাংলাদেশীদের এক বিচিত্র প্রবণতা। একটা করে সাহেদ ধরা পড়ে – তারা বিপুল উৎসাহে ঝাঁপ – ফাহাম আবদুস সালাম”

  1. বিকল্পের দিকনির্দেশনা না দিলে এত ভালো লেখাটা কিন্তু অর্থহীন হবে ।

  2. আমি খুব চাচ্ছিলাম লেখাটি শেয়ার করতে কিন্তু এটা অসম্ভব। আপনি বিদেশে থাকায় বলতে পারছেন নাহলে এর জন্য কোপ খেয়ে যেতেন। তবে এই রাষ্ট্রযন্ত্রের বিকল্প কি তা নিয়ে ভাবাটাও জরুরি। এই চলমান অবস্থাকে আমরা কি দিয়ে পদাঘাত করবো সেই উপায় ও আমাদের নেই।

  3. বর্তমান অবস্থায় এভাবে সাহসিকতার সাথে কাউকে সত্য কথা গুলো লিখতে দেখলে মনের মধ্যে অনেক সাহস আসে।কিন্তু আইনের মারপ্যাঁচে কিছুই লিখতে বা বলতে পারি না😪😪

  4. ব্যাপারটা একদিক দিয়ে যেমন এরকম, এর পাশাপাশি আইসিটি এক্টের পরোয়ানার কথা ভেবেও অনেককে নিবৃত্ত হতে হয়। হাসিনাকে সরাসরি মেনশন করে সমালোচনা করা শুধুমাত্র দেশের বাইরে বসেই সম্ভব, দেশে বসে এইটার সমালোচনা করা মানে নিজের আত্মাটা র্যাবের হাতে তুলে দেয়া। ‍সেই কারণে জোর করে কাউকে বলা যায় না এইটা কইরেন না।

    তবে এইরকম খুচরা খাচরা সরকারের ছুড়ে দেয়া ফালতামিকে এভয়েড করার বিদ্যেটা আয়ত্ত করা জরুরি, দানবের ১২টা বছর পার করার পরেও এই সস্তা ব্যাপারগুলা ধরতে না পারাটা হতাশাজনক। হাসিনার সরাসরি নাম না নিয়েও টেকনিক্যালি ওরে ক্রুসিফাই করা যায়। এইটা কতটা ইফিশিয়েন্টলি করা যায় সেইটাতেই মন দেয়া দরকার।

  5. কথা‌ ঠিক বলেছেন, তবে হাসিনা সরকারকে সরাসরি ট্যাগ দিয়ে আমরা কিছু করতে পারি না! কারণ আমাদের দেহ এবং আত্মা দুইটাই আইনশৃঙ্খলার কাছে বন্দি, একবার তাদের কাছে নোটিশ পৌঁছে গেলে সোজা মৃত্যু বা জেল…..এই ভয়েই হয়তো আমরা সাহেদ সাব্রিনাদের নিয়ে দুই কথা সোস্যাল মিডিয়ায় লিখে যাই।

  6. Ek Dr.Shohidul Alom ke arrest kore je nastanabud kora hoeche tate hajar hajar Shohidul emnitei nirbak hoe geche.ki dorker nijer ar family er jonne biporjoy deke anar, tar cheye khanik binodon Sabrina Shahed rai to bhalo …

  7. শেয়ার করার খুব ইচ্ছে ছিলো ভাইয়া।
    কিন্তুু সময় এবং পরিস্থিতি কোনটাই অনুকূলে না।

  8. রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা যখন চরম অসঙ্গতির জায়গায় পৌছায় তখন ব্যঙ্গ বিদ্রুপ ই একমাত্র হাতিয়ার। শেক্সপিয়ারের কমেডি অব এরর, নিকোলাস উডলের রালফ রয়স্টার ডয়স্টার, মধুসূদনের একেই কি বলে সভ্যতা, দীনবন্ধুর নীল দর্পন নাটকের উদ্দেশ্য ই ছিলো ক্ষমতাসীনদের
    অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। বর্তমানে অন্যায়ের প্রতিবাদের সব রাস্তা বন্ধ এমনকি কার্টুন আঁকলে জেলে যেতে হয়।

    জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড! ক্যাসিনো কান্ডে যারা গ্রেফতার তারা রাজার হালে হাসপাতালে শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছে, কারা কর্তৃপক্ষ বলছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ কে চিঠি দিয়েছেন তাদের ফেরত দিতে আর হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলছেন কারা কতৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন তাদের নিয়ে যেতে। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে কেউ ই কিছু করছে না। একজন রিপোর্টার দলীয় লোক পরিচয়ে কর্তব্যরত পুলিশকে দেখা করতে চাইলে সে সেই ব্যবস্থা ও করে দিচ্ছে।

    এদেশের মানুষের হাতে ফেসবুকের হাহা রিয়েক্ট ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নাই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে যে চুতিয়াপনা বানিয়ে রাখা হইছে, ক্লাস নাইনের ছেলেক তুলে নিয়ে যায় সেখানে আমি তো তাদের জন্য ভয়ংকর! সাবরিনা, সাহেদ, পাপলু, জিকে শামীমের নাটক দেখতে দেখতে অনেক মানুষ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যেত যদি ফেসবুক হাহা রিয়েক্ট না থাকতো!।

  9. আল-জাজিরায় এক প্রতিবেদন দিয়েছে। মানবতার মাকে করাপশনের মা অভিহিত করেছে।

  10. রুপূপুরের বালিশ কাণ্ডের মতন আরকি, মাসে মাসে নতুন পোটকা মাছ শিকারের খেলা চলতে থাকবে।

  11. প্রফেসর তাজ হাশমির মতে সম্রাট,পাপিয়া, শাহেদ পাশের দেশের ওয়ার্নিং চীনের সাথে সক্ষতা না বাড়ানোর। এই আর্টিকেলটাও এই থ্রেটের অন্তর্ভুক্তঃ
    https://m.telegraphindia.com/opinion/a-crack-in-the-hornets-nest-bangladesh-military-tussle/cid/1779697

  12. গত ১২ বছরে আওয়ামী সফলতা হলো ঠিক সময় মতো পাবলিকের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়ার মতো উপাদান মার্কেটে ছেড়ে দেয়া।পাবলিক তাই দেদারসে খায়,মজা পায়।।

  13. গান্ডু বাংগালী তাও তেনা পেচায়া বলবে- সবাই খারাপ আম্মো ভাল।

  14. Don’t think people are so naive. They are just not capable. They don’t have an alternative. Who should they believe? I started liking your posts. But you showed your skin in shajahah siraj case.

  15. কথা সেটাই।সব কিছুর মূলে হাসিনা এবং হাসিনার ভোট ডাকাতি।আর এই অনিয়ম দুর্নীতি মানুষ খুন, ঘুম সব কিছুর দায়ভার ও হাসিনাকে নিতে হবে।

Comments are closed.