নর-নারীর সম্পর্ক, সম্পর্কের ধরন ও তার ফিলোসফি – আমার ধারণা – নিয়ন্ত্রণ করেছে বে – ফাহাম আবদুস সালাম

নর-নারীর সম্পর্ক, সম্পর্কের ধরন ও তার ফিলোসফি – আমার ধারণা – নিয়ন্ত্রণ করেছে বেটা মেইলরা – সব কালে।

এটা আমার একটা হাইপোথিসিস। ব্যাখ্যা করি। প্রথমেই একটা টেন্টেটিভ দৃশ্যকল্প:

আলফা মেইল: জর্জ ক্লুনি/সত্যজিৎ রায়

আলফা ফিমেইল: ক্লডিয়া কার্ডিনেইল/মার্গো রোবি

বেটা মেইল: হাসান মাহমুদ/জনি লিভার

বেটা ফিমেইল: তসলিমা নাসরীন/মুন্নুজান

হায়ার প্রাইমেটদের ক্ষেত্রে কী হয় একটু চিন্তা করুন – ঠাণ্ডা মাথায়।

আলফা গোরিলা – বেটা গোরিলাদের কায়দামতোন সাইজ করবে – গোরিলারা অপেক্ষাকৃত ছোটো ছোটো গোত্রে থাকে – তারপর আলফা গোরিলা, আলফা ফিমেইল ও বেটা ফিমেইল সবার সাথে য়ে মানে শুয়ে পড়বে। মনে রাখবেন – এনিম্যাল কিংডমে কনডোম নাই, বার্থ কন্ট্রোল পিল নাই।

এই বন্দোবস্তে লাভবান কে? আলফা মেইল ও বেটা ফিমেইল।

ক্ষতি কার? আলফা ফিমেইল ও বেটা মেইলের।

এনিম্যাল কিংডমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সব ফিমেইল, আলফা ও বেটা – বায়োলোজিকালি প্রোগ্রামড – আলফা মেইলের প্রতি। কেন? সব মেয়ে চাচ্ছে বেস্ট জীন পাস অন করতে। বেস্ট জীন পাওয়া যাবে আলফা মেইলের কাছ থেকে (এনিমাল কিংডমে বেটার জীনের ম্যানিফেস্টেশান সহজেই ‘দর্শনযোগ্য‘)। আলফা মেইল কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রোভাইডার হিসেবেও ভালো। আবার বেটা ফিমেইল চাচ্ছে জর্জ ক্লুনি যেন হাসান মাহমুদকে শিকস্তি দেয়? কেন? কারণ না হলে হাসান মাহমুদ জীন পাস অন করবে যেটা বেটা ফিমেইল মোটেও চায় না।

একই ভাবে আলফা ফিমেইলও বেটা মেইলকে দেখতে পারে না। কারণ একই। জীব জগতে বেটা মেইলকে মেয়েরা পছন্দ করে না প্রিটিমাচ যেই কারণে সিনেমায় ডিপজলকে নায়িকারা পছন্দ করে না – সেই একই কারণে। ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যমান ব্যবস্থায় গোরিলাজগতের মার্গো রোবির সমস্যা হোলো জর্জ ক্লুনিকে মুন্নুজানের সাথেও ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

বেটা মেইল (যারা সংখ্যায় অধিক) যদি এই বন্দোবস্ত চলতে দেয় – তাহলে সে মার্গো রোবি; মুন্নুজান – কাউকেই পাবে না। খেয়াল করুন যে বেটা মেইল – এজ এ গ্ৰুপ – সবচেয়ে শক্তিশালী – কিন্তু বিদ্যমান ব্যবস্থার সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ।

মানুষ, গোরিলা থেকে অনেক অনেক আলাদা। গোরিলার ক্ষেত্রে জর্জ ক্লুনি হোলো সবচেয়ে বড় গোরিলা – মানে তাকে মোহাম্মদ আলী বা আকোয়াম্যান হতে হবে। মানুষের ক্ষেত্রে জর্জ ক্লুনি কিন্তু নানান কারণে আলফা মেইল হতে পারে। সে অর্থনৈতিক শক্তির কারণে কিংবা রাজার ছেলে হওয়ার কারণে আলফা মেইল হতে পারে। স্ট্রং পার্সোনালিটি, সাহস ও হায়ার ইন্টেলিজেন্সের কারণেও মানুষের মধ্যে আলফা মেইল হয়।

কিন্তু বেটা মেইলের ক্ষেত্রে আমার ধারণা মানুষ ও গোরিলা উভয় প্রাইমেটে – একই ধরনের বিপদ।

মানুষের ক্ষেত্রে একটা সুবিধা হোলো জর্জ ক্লুনি, হাসান মাহমুদের তুলনায় অতো বিকট শক্তিশালী না তাই জর্জ ক্লুনি, হাসান মাহমুদকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারছে না – যেটা গোরিলার ক্ষেত্রে খুবই সম্ভব একটা বিষয়।

এমন অবস্থায় হাসান মাহমুদের জন্য বেস্ট বেট কী?

মনোগামি এস্ট্যাব্লিশ করা ।

য়েস – আমার ধারণা মনোগামি কোনো ধর্মের আবিষ্কার না, এটা বেটা মেইলদের আবিষ্কার এবং এও আমার ধারণা যে : পৃথিবীর প্রথম সফল সোশালিস্ট মুভমেন্ট হোলো মনোগামি।

প্রকৃতি অবশ্যই চাচ্ছে বেস্ট জীন পাস অন করুক। মানুষের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হোলো অনেক ধরনের সুবিধাজনক জীনের কোনো ম্যানিফেস্টেশান নাই। হয়তো আপনি জেনেটিকালি ইমিউন HIV’র এগেইন্সটে – কিন্তু সেটা তো দেখা যাচ্ছে না। মেয়েরা যেহেতু জীন পাস অন করার মূল এজেন্ট এবং এই কাজটা শারীরিকভাবে অসম্ভব কষ্টকর – সে গুড জীন, আমার ধারণা মডুলারভাবে দেখে। অর্থাৎ একটা মেয়ে (আলফা কিংবা বেটা ) মনে করবে যে সত্যজিৎ রায় যেহেতু আলফা মেইল সেহেতু সম্ভাব্য সব ভালো জীন তার মধ্যে আছে।

এই ক্ষেত্রে প্রকৃতির জন্য গুড জীন পাস অন করার একটা এফিশিয়েন্ট রাস্তা হোলো পলিগ্যামি। আমার ধারণা পৃথিবীর প্রত্যেকটি মেয়ে সাব-কনশাসলি বোঝে যে হাসান মাহমুদের একমাত্র স্ত্রী হওয়ার চেয়ে জর্জ ক্লুনির পঞ্চম স্ত্রী হওয়াটা বায়োলোজিকালি বেশী সেন্সেবল।

কিন্তু বেটা মেইল – যারা সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী কোহর্ট – এই ব্যবস্থা চলতে থাকলে তারা সব দুধভাত বা ফ্রেন্ড-জোনড হয়ে যাবে।

কীভাবে সেটা আটকানো যায়? মূলত নৈতিকতা ও রোম্যান্টিক প্রেমের আবিষ্কারের মাধ্যমে বেটা মেইলরা মনোগামিকে এস্ট্যাব্লিশ করতে পেরেছে বলে আমার অনুমান। মার্গো রোবিরও (আলফা ফিমেইল) এতে সুবিধা। জর্জ ক্লুনিকে মুন্নুজান বা তসলিমা নাসরীনের সাথে ব্যস্ত থাকতে হোলো না।

একারণেই আমার সবসময় মনে হয়েছে যে নরনারীর সম্পর্কের যে মূল গতি-প্রকৃতি সেটা বেটা মেইলদের তৈরী। আমাদের সমাজে কিংবা অনেক সমাজেই – তাহলে সমকামের প্রতি এরকম ভিসেরাল প্রতিক্রিয়া – এর কারণ কী?

এটা তো শুধুমাত্র ধর্ম দিয়ে ব্যাখ্যা করাই যায় না। বেটা মেইলদের তো সমকামের ব্যবস্থায় আনন্দিত হওয়ার কথা – কেননা এতে তাদের প্রতিযোগিতা কমার কথা। সেই কারণে কি আমার ব্যাখ্যাটা নড়বড়ে হয়ে যায়? হতে পারে!

আবার ও হতে পারে যে বেটা মেইলদের সমকামের প্রতি এরকম ভিসেরাল প্রতিক্রিয়া কারণ মেয়েদের সমকামের প্রতি তাদের একটা প্রাইমাল ফিয়ার আছে। সেক্ষেত্রে তাদের জীন পাস অন করার কোনো রাস্তাই থাকবে না।

বাংলাদেশের মানুষের সমকামের প্রতি যে ডিসপ্রোপোশেনেট প্রতিক্রিয়া, উদ্বেগ ও ঘৃণা – এটা আমার ধারণা নিয়ন্ত্রণ করে বেটা মেইলরা?

আপনার কী মনে হয়?

উৎস । তারিখ: 2020-07-08 14:56:17

31 thoughts on “নর-নারীর সম্পর্ক, সম্পর্কের ধরন ও তার ফিলোসফি – আমার ধারণা – নিয়ন্ত্রণ করেছে বে – ফাহাম আবদুস সালাম”

  1. যারা এই স্ট্যাটাসের মর্মার্থ ধরতে পারবে তারা আলফা মেইল। যারা পারবে না তারা বেটা মেইল।

  2. আমার ধারণা সমকামিতা নিয়ে বেটা মেইলদের সবচাইতে বড় ভয় হচ্ছে ফাকড হবার ভয়..

  3. আমি আপনার লেখা পড়ি, অনিয়মিত হলেও পড়ি৷ ফলো করিনি এতোদিন। আপনাকে কিছুটা এরোগেন্ট মনে হোতো আমার। এই লেখার পরে বলতে ইচ্ছে করছে আপনি আসলেই এরোগেন্ট, তবে এই এরোগেন্স আপনার মতো আলফা মেইলদের অলংকার। জাস্ট আ-আ-আ আমমেজিং….

  4. বিটা মেইল, তার ওপর বাংগাল, এ-র কাছে এতো লজিক্যাল ডিসিশান প্রত্যাশা করলে তো মুশকিল। এরা কেবল ত্যাগেই সুখ খুঁজে নিয়েছে। ফলাফল ইন্টারপ্রেট করতে এরা সম্পূর্ণ অক্ষম।

  5. চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির জন্যে তো দুব্বল জিনগুলো বংশপরম্পরায় বিস্তারিত হচ্ছে।

  6. শুধু বাংলাদেশ আলাদা নাকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো একই রকম মনোভাব দেখায়? আর তা যদি সত্য হয় তাহলেতো মুসলিম মানেই বেটা, মুসলমান আলফা হতে পারে না? ভুল বললাম কিছু?

  7. So, why anyone will not pass their genes if they know about genetics? Doesn’t matter he is alpha or beta.
    But what is the utility of homosexuality? Nothing.
    And you are keeping alpha and beta women in safe positions. But ironically, they will get rejected as they gets elder.
    From your analysis, men are the real victims here. And the whole ground of feminism is absurd.

  8. আপনার কাছ থেকে এইরকম কথা অপ্রত্যাশিত। মানুষের জিনেটিক এক্সপ্রেশন কি এত সরলরৈখিক? নাকি এইটা রেটরিক? সেইটাই হওয়ার কথা।

  9. Hmm.. ei dhoroner status beta male er moto hoiche.. ar beti male ra sohomot prokash kortese.. ki jani vai.. eto kishu bujhina … we know, God created Adam and Eve not Adam and Steve… sodomites will disagree.

  10. পৃথিবীর ইতিহাসে সব অপসংস্কৃতির বা কোর্পরেট ধান্ধার প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছে পুরুষত্ত্ব বা আপ্নার ব্যাখ্যায় আল্ফা মেইল।

  11. একজন প্রকৃত মুসলিম সবার আগে কেবলই ইসলামের নিষেধাজ্ঞার জন্যই হোমোসেক্সুয়ালিটির বিরোধিতা করবে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা একে হারাম করেছেন, তাই হারাম। তারপর অন্যান্য ফ্যাক্টর।
    একজন মুসলিমের (যে কি না শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারী না, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের ধর্ম ইসলামের অনুসারী) কাছে সবচেয়ে বড় মাপকাঠি, সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হচ্ছে ইসলাম। মুসলিম ইসলামের জন্যই বাঁচে, ইসলামের জন্যই মরে।

  12. I think it is the case that ‘beta syndrome masculinity’ is not in conflict with homosexuality, which has always been practiced in human societies. The Greeks and Romans practiced it openly, and so did the citizens of Sodom and Gomorrah, so much so that god himself destroyed the people and banished the activities to be allowed only in heaven!

    I think as in the freer societies about 3-4% of the populations admit to non-heterosexuals practice and relationships where gay rights are established, the detected abhorrence towards homosexuality in the pockets of Asian societies is not pathological but more cultural, borne often out of ignorance.

  13. লেখাটি প্রথম পড়ে বুঝিনি, কিন্তু পরের বার শুরু থেকেই সুন্দরভাবে বুঝলাম। লেখক এখানে শুধু একটা মতবাদ/হাইপোথীসিস দিয়েছেন হালকাভাবে। তার এই হাইপোথীসিসে তার নিজেরও আস্থা কম এটাও বলেছেন। তিনি এই লেখার কোথাও সমকামীতার পক্ষে বলেছেন বলে মনে হয়নি। লেখাটি শুরু হয়েছিলো মনোগ্যামী ও পলিগ্যামী দিয়ে। যারা ইংরেজীতে দুর্বল বিধায় লেখাটির মর্ম বোঝেননি তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, একটা পুরুষ একটি নির্দ্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে কেবল একটি নারীর সাথেই বিবাহবদ্ধ ( লিভ টুগেদারও হতে পারে ) থাকবে এটাই মনোগ্যামী। লেখকের মতে মনোগ্যামী জিনিসটা সোশ্যালিস্টদের আবিষ্কার, ধর্মের না। আমরা নিজেরাও জানি, আমাদের ইসলাম ধর্ম একজন পুরুষকে একই সাথে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখা তথা নিয়ন্ত্রিত পলিগ্যামীর বৈধতা দেয়, কিন্তু কোন মহিলাকে দেয় না। ইসলাম ধর্মের এই নিয়মও লেখকের হাইপোথীসিসের সাথে মেলে। কারণ মেয়েদের এই সুযোগ থাকলে আলফা-ফিমেইলও বেটা-মেইলের জীন পাস করে বসতে পারে। কিন্তু ইসলামের নিয়মে পলিগ্যামীর বৈধতা থাকলেও তা অবাধ না। তাই প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীকূলে বেটা-মেইলরা বঞ্চিত হলেও, ইসলামের নিয়মে কেউই বঞ্চিত হয় না, আবার আলফা জীন পাসিংও বাড়ে। যদিও এই আলফা-বেটা জীনের ব্যাপারও সুপ্রমাণিত কিছু না, তবু যদি সেটার কিছু গ্রহণযোগ্যতা থাকেও সেটা কিন্তু ইসলামের নিয়মেও আরো বেশি সংহত হয়। কাজেই এই পর্যন্ত ফাহামের বক্তব্যের সাথে ইসলাম ধর্মের কোন বিরোধ নেই, বরং তার হাইপোথীসিস ইসলামের নিয়মকে সাপোর্ট দেয়। যদিও কোন ধর্মের সাপোর্ট বা বিরোধিতার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেননি এখানে। তার মতে, মনোগ্যামী আবিষ্কার করেছে সোশ্যালিস্টরা, কিন্তু তারাই আবার সমকামীতার পক্ষেও বলছে যার বিরোধিতা করছে বেটা-মেইলরা। এই হাইপোথীসিস অনুযায়ী বেটা-মেইলদের পুরুষ সমকামীতার বিরোধিতা করা কথা না, কারণ এটা চললে তার বরং প্রতিদ্বন্দি কমে, কিন্তু তারপরও তারা এটার বিরোধিতা করে, কারণ সোশ্যালিস্টরা শুধু পুরুষ সমকামীতার পক্ষেই বলে না, নারী সমকামীতার পক্ষেও বলে। নারী সমকামী বেড়ে গেলে আবার বেটা-মেইলরা নারী সঙ্গীই পাবে না। তাই বেটা-মেইলরা পুরো সমকামীতারই বিরোধিতা করে। লেখক এখানে ধর্ম নিয়ে আসলে কিছু বলে নি, তবে তার কথায় মনে হতে পারে যে, সমকামের বিরোধিতা যারা করছে, তারা যতটা না ধর্মের কারণে করছে তার চেয়ে বেশি করছে বেটা-মেইল হবার কারণে। আমি নিজেও সমকামীতা সমর্থন করি না এবং ইসলাম মানি, কিন্তু ফাহামের যুক্তিও সমর্থন করছি, কারণ এই লেখাটিতে সে ইসলামের বিপক্ষে বা সমকামীতার পক্ষে কিছুই বলেনি। যারা এমনটা ভাবছেন তারা হয়তো তার কথা বোঝেন নি। আমি নিজেও শুরুতে বুঝি নি, কিন্তু না বুঝে মন্তব্য করা ঠিক না। আমার মনে হয়, অনেকেই তা করছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহনশীলতা দিন এবং সঠিক জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করুন। আমীন।

Comments are closed.