আমাকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী, গ্লোব-বায়োটেকের ভ্যাকসিন লেজিট কিনা জিগ্যেশ করেছেন। – ফাহাম আবদুস সালাম

আমাকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী, গ্লোব-বায়োটেকের ভ্যাকসিন লেজিট কিনা জিগ্যেশ করেছেন।

প্রথমত আমার দুর্বলতার কথা বলে রাখি। ঠেকে শেখা জিনিস। সারা জীবনের অভিজ্ঞতা – ব্যাখ্যা করতে পারবো না। আমি বাঙালি মুসলমানের যেকোনো আশাবাদী কথাকে প্রথমত ইন্সটিন্কটিভলি মিথ্যা বা এম্বেলিশমেন্ট হিসেবে ধরে নেই। আমাকে ভুল প্রমাণ করা আমার দায়িত্ব না, তার দায়িত্ব।

আমি প্রেস কনফারেন্সটা দেখেছি। আমি যেটা বুঝলাম – গ্লোব বায়োটেকের এবসোলিউটলি কোনো ধারণাই নেই ক্লিনিকাল ট্রায়াল কীভাবে কখন কোথায় করবে। তারা এখনো টক্সিসিটি (বা সেফটি) এনসিউওর করতে পারে নাই। একান্তই আমার ব্যক্তিগত ধারণা – তারা এখনো ডেলিভারি সিস্টেমে কোন ন্যানো-পারটিকেল কী হবে এটাও ফাইনালাইজ করতে পারে নাই।

আমি যা বুঝলাম তাদের কাছে খুবই প্রিলিমিনারী কিছু ডেটা আছে – এবং এই ডেটা নিয়েই তারা উত্তেজিত হয়ে গেছে। আমরা যদি তাদের কথা ফেইস ভ্যালুতে ধরেও নেই যে সত্য – এবং তাদের ভ্যাকসিন এফেকটিভ (খুবই বড় বড় দুটো ‘ইফ’) – তাহলেও এই ভ্যাক্সিনে মিনিমাম দেড়-দুই বছরের কাজ বাকী আছে।

এবং

বায়োলজিকাল মেডিসিন বাজারে আনা, কেমিকালি সিন্থেসাইজড স্মল মলিকিউল থেকে বহুগুণ বেশী ডিফিকাল্ট। তাদের ক্লিনিক্যাল স্টাডি করতে হবে পাইলট ব্যাচ না, কমার্শিয়াল স্কেল ব্যাচে।

আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে বাংলাদেশে ১৫০০ লিটারের বায়োরিএক্টর নাই যেখানে আপনি ম্যামালিয়ান সেল গ্রো করতে পারবেন।

তো আপনি পিভোটাল স্টাডি ব্যাচ তৈরী করবেনই বা কীভাবে (আমি জানি যে তাদের রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএর জন্যে ম্যামালিয়ান সেল লাগবে না – বুঝছি। কিন্তু বায়োরিএক্টর তো লাগবে। কে বানাবে সেটা ?)

পৃথিবীতে যদি কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যায় (আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে) – সেটা আগামী এক বছরের মধ্যেই আসবে।

বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন যতোই ভালো হোক সেটা কোনোভাবেই এতো তাড়াতাড়ি আসবে না।

সিরিয়াসলি – এটা নিয়ে এতো উত্তেজিত হওয়ার কিছু নাই।

উৎস । তারিখ: 2020-07-02 20:58:10

25 thoughts on “আমাকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী, গ্লোব-বায়োটেকের ভ্যাকসিন লেজিট কিনা জিগ্যেশ করেছেন। – ফাহাম আবদুস সালাম”

  1. আপনার এই বক্তব্য ওদের কাছে কেউ যদি পৌছাতে পারতেন,,,,
    কিংবা আপনাকে যদি কোনোভাবে ওদের সাথে সংযোগ ঘটানো যেত,
    তাহলে মানুষ উপকৃত হত।
    একটা দেশি ভ্যাক্সিন বেরিয়ে যেত।
    ক্যাপাসিটি যা যা নেই, কিভাবে সেগুলো বাড়ানো যায় কিংবা আনানো যায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতাদি বিষয়ে আপনার পরামর্শে উপকৃত হত তারা।

  2. সত্যি কথা বলতে, তারা জানেই না, তারা কি নিয়ে কাজ করছে। তবে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।

  3. ভাই, আপনার লেখাগুলো আমি সবসময় অনুসরণ করি।একটা অনুরোধ, বাংলাদেশ সম্পর্কে অন্তত একটা সদর্থক লেখা লিখেন।

  4. আমি এই বিষয়ে জানার জন্য আপনাকে ইনবক্স করবো সকালে এমন পরিকল্পনা করছিলাম, এখন বাসায় ঢুকে আপনার স্টাটাসটা নজরে পরলো, ধন্যবাদ।

  5. আসিফ মাহমুদ (ইন চার্জ Globe Biotech Limited)
    আইডিয়াল স্কুল থেকে মেট্রিক 7th স্ট্যান্ড
    নটরডেমিয়ান
    ঢাকা ইউনিভার্সিটি Bachelor’s Degree Microbiology1st Class (3rd Position) , মাস্টার্স এ First Class (1st Position)
    জাপানের Gifu University থেকে masters & PhD.
    উনার মতো মেধাবী কেন ঢাকা ভার্সিটির লাল সাদা শিক্ষক হন নাই আর অত্যন্ত মেধাবীর খামার এর জন্য বি সি এস গাইড পড়েন নাই… বুঝতেছি না মেধা কম বলে।
    ভ্যাকসিন এর ঘোষণা দিতে guts লাগে,মেধা লাগে।হোক না হোক …বাংলাদেশ থেকে কেউ চেষ্টা করতেছে।Feeling really proud
    দোআ করি যেন আল্লাহ রহমত ফিরে আসে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আসিফ ভাই এর মত মেধাবী মানুষ দ্বারা ভালো কিছু হয়।
    আপনারও দোআ করেন। আমিন।
    https://bd.linkedin.com/in/asif-mahmud-phd-935b122b

  6. ‘আমি বাঙালি মুসলমানের যেকোনো আশাবাদী কথাকে প্রথমত ইন্সটিন্কটিভলি মিথ্যা বা এম্বেলিশমেন্ট হিসেবে ধরে নেই।’ 👍

  7. ক্রটি, সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠুক এবং সময় লাগলে লাগুক তবুও বাংলাদেশেী কোন কোম্পানি তেমনটি করতে পারলে দেশের গৌরব ও আর্থিক ভাবে ও আমরা উপকৃত হবো।তবে আপনার অবজারভেশন গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সহায়তা করুন

  8. অন্তত তারা সাহস করে এই উদ্যোগটা নিছে, এজন্য হলেও ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।

  9. বাংগালী নিজেদের কে কখনোই মুল্লায়ন করা সেখে নাই। দেখেই বাংলার এই অবস্থা। হা করে তাকিয়ে থাকবে কবে সাদা চাম্রার লোকেরা কিছু বানাবে। আর নিজের দেশের লোক বানালে সেটা কিভাবে টেনে নিচে নামাবে এই চিন্তা। উন্নতি হবে কই থেকে😥😥

  10. গ্লোবে বায়োরিএক্টর আছে। আর বাংলাদেশের আরেকটি ফারমাসিউটিক্যালে ২০০০ লিটারের একাধিক বারোরিএক্টর আছে (ম্যামেলিয়ান সেলের জন্য)

  11. প্রথমে ভেবেছিলাম এই ইস্যুটা পুরোটাই এভয়েড করবো,কারণ আপনি যা লিখেছেন তা আমি কিছুটা হলেও বুঝি এন্ড আলসো জেনেছিও!কিন্তু এই দেশে এসব নিয়ে কথা বলা মানেই হলো পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার সুযোগ করে দেয়া অনেকটা!কিন্তু চারপাশের যা অবস্থা দেখছি মনে হচ্ছে এবার আর চুপ থাকা উচিত হবেনা।কিছু তো বলতেই হয়!ভেবে দেখলাম আমি অল্প স্বল্প জানা মানুষ,আমার কথা কেই বা শুনবে বা পড়বে.. আমি এতো ভালো আবার বলতেও পারিনা ;সো তার চেয়ে ভালো আপনার লেখা আর্টিকেল টাই শেয়ার করি! শেয়ার দিলাম।চারপাশের মানুষজনের গ্লোব বায়োটেক নিয়ে পাগলামি এবং হুজুগে অবস্থা দেখে জাস্ট বিরক্ত।

  12. আপনার নিজের ধারনা কতটুকু, তা একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রমাণ দিল। বই লিখেন, ফেইসবুকে লাইক পাওয়ার জন্য যা ইচ্ছা তা লিখেন, বাট নিজেরে সবকিছু মনে করবেননা। সত্য আর যুক্তি ২ টা দুই জিনিস। আপনার যুক্তিও ঠিক নাই। সত্য বের হলে তো কাপড় ঠিক থাকবেনা

Comments are closed.